ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা ও ট্রলের মুখে পড়েছেন অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক। তবে এসব নিয়ে ক্ষুব্ধ নন বলে জানিয়েছেন তিনি। মানুষের আচরণ ও মানসিকতা বোঝার চেষ্টা করেন বলেও মন্তব্য করেছেন এই অভিনেত্রী।
সোমবার (৫ অক্টোবর) কলকাতায় বিজেপির কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দলটিতে যোগ দেন কোয়েল মল্লিক। এ সময় তাঁর হাতে দলের পতাকা তুলে দেওয়া হয়। এর আগে বিজেপি তাঁকে পশ্চিমবঙ্গের একটি রাজ্যসভা আসনের উপনির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা করে।
দলে যোগ দেওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে নিয়ে নানা মন্তব্য শুরু হয়। এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে কোয়েল বলেন, তিনি মনোবিজ্ঞানের ছাত্রী হওয়ায় মানুষের আচরণ ও মানসিকতা বোঝার চেষ্টা করেন।
তিনি বলেন, ‘রাগ এই জন্য নেই। হয়তো আমি সাইকোলজির ছাত্রী। সেই মানবিকতাবোধ আমার রয়েছে।’
অন্যকে ছোট করা বা অপমান করার পেছনে মানুষের নিজের ক্ষোভ ও অসন্তুষ্টি কাজ করতে পারে বলে মনে করেন কোয়েল। তাই ট্রলকারীদের পাল্টা আক্রমণ না করে তাঁদের মানসিক সুস্থতা কামনা করেন তিনি।
কোয়েল বলেন, ‘তারা যদি সুখে থাকতেন, তাহলে অন্য কাউকে অপমান করে, ছোট দেখিয়ে এত বাজে বাজে কথা বলে টক্সিসিটি ছড়াতেন না। তাদের মানসিক সুস্থতা কামনা করি।’
মানুষের সেবায় রাজনীতিতে
বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তের কারণও ব্যাখ্যা করেছেন কোয়েল। মানুষের কল্যাণ ও সেবার জন্য কাজ করতে একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম প্রয়োজন ছিল বলে জানান তিনি।
কোয়েল বলেন, ছোটবেলা থেকেই মানুষের সেবার বিষয়টি দেখে বড় হয়েছেন তিনি। গরমের ছুটিতে অন্যরা যখন বেড়াতে যেত, তখন তাঁর মা তাঁকে মিশনারিজ অব চ্যারিটিতে নিয়ে যেতেন বলেও জানান অভিনেত্রী।
রাজ্যসভার সদস্য হওয়ার সুযোগকে বড় দায়িত্ব হিসেবে দেখছেন কোয়েল। মানুষের কল্যাণের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য কাজ করার আগ্রহের কথাও জানান তিনি।
কোয়েলের রাজনৈতিক পথচলা অবশ্য এ বছরই শুরু হয়। মার্চে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে রাজ্যসভায় নির্বাচিত হওয়ার পর এপ্রিলে শপথ নেন তিনি। পরে ১৬ জুলাই সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেন। এরপর বিজেপি তাঁকে সেই আসনের উপনির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা করে। আগামী ১৬ অক্টোবর ওই আসনে ভোট হওয়ার কথা রয়েছে।

