বৈধ পাসপোর্ট ও ভিসা থাকলেও কোনো বিদেশি নাগরিকের ভারতে প্রবেশের নিরঙ্কুশ বা আইনগতভাবে বলবৎযোগ্য অধিকার নেই বলে রায় দিয়েছেন দিল্লি হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, ভিসা দেওয়া, দেশে প্রবেশের অনুমতি এবং অভিবাসন ছাড়পত্র দেওয়া রাষ্ট্রের সার্বভৌম ক্ষমতার অংশ।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর বিচারপতি অমিত মহাজন এ আদেশ দেন। বৈধ ব্যবসায়িক ভিসা থাকা সত্ত্বেও ভারতে প্রবেশের অনুমতি না পাওয়া তুর্কমেনিস্তানের এক নারীর করা আবেদন খারিজ করে আদালত এ পর্যবেক্ষণ দেন।
আদালত বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, বৈদেশিক সম্পর্ক ও জনস্বাস্থ্যের মতো বিষয় বিবেচনায় নিয়ে কোনো বিদেশি নাগরিককে দেশে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া বা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারে রাষ্ট্র।
৪৭ বার ভারতে ভ্রমণ
ওই নারী আদালতকে জানান, গত ২৫ মার্চ স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে ভারতে আসার পর তাকে প্রবেশের অনুমতি না দিয়ে তুর্কমেনিস্তানে ফেরত পাঠানো হয়। তবে তাঁর স্বামীকে ভারতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। বৈধ ব্যবসায়িক ভিসার ভিত্তিতে তাঁকেও ভারতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার আবেদন করেন তিনি।
ভারতীয় কর্তৃপক্ষ আদালতে যুক্তি দেয়, বৈধ ভিসা থাকলেই ভারতে প্রবেশের শর্তহীন অধিকার তৈরি হয় না। ভিসা প্রদান এবং সীমান্তে প্রবেশের অনুমতি দুটি পৃথক বিষয়।
কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, ওই নারীর বিষয়ে কিছু বিরূপ তথ্য এবং তাঁর ভ্রমণ ইতিহাস নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে তিনি ৪৭ বার ভারতে ভ্রমণ করেছেন। এসব সফরের অধিকাংশই ছিল এক থেকে তিন দিনের। তিনি ব্যবসায়িক ও চিকিৎসা ভিসা ব্যবহার করে এসব সফর করেন।
নথিতে অসঙ্গতির কথাও উল্লেখ
আদালত আরও উল্লেখ করেন, ওই নারীর বাবা-মা ও স্বামী সম্পর্কে দেওয়া তথ্যে অসঙ্গতি ছিল। ভারতে ব্যবসা পরিচালনার দাবির সমর্থনে প্রয়োজনীয় নথি বা আমন্ত্রণপত্রও তিনি দেখাতে পারেননি। তুর্কমেনিস্তানে তাঁর ব্যবসার বিস্তারিত তথ্যও তিনি আদালতের সামনে উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হন।
মামলার নথি ও উপস্থাপিত তথ্য পর্যালোচনা করে দিল্লি হাইকোর্ট আবেদনটি খারিজ করে দেন। আদালত স্পষ্ট করে বলেন, কোনো বিদেশি নাগরিকের ভারতের ভূখণ্ডে প্রবেশের সহজাত বা আইনগতভাবে বলবৎযোগ্য অধিকার নেই।

