ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, হুতিদের বিভিন্ন অবস্থান লক্ষ্য করে তারা ১ হাজার ১২২টি হামলা চালিয়েছে। এসব অভিযানে হুতিদের ১ হাজার ৭৪৭ সদস্য নি’হত বা অক্ষম হয়েছেন বলেও দাবি করেছে তারা।
সোমবার ইয়েমেনি সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল মাজেদ আবদুল্লাহ আল-নুজাইলি এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পুনরুদ্ধার এবং দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরকারের নিয়ন্ত্রণ ও সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে শুরু হওয়া ‘মুক্তির যুদ্ধের’ অংশ হিসেবে এসব অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
আল-নুজাইলির ভাষ্য অনুযায়ী, ইয়েমেনের সাদা, আল-জাওফ ও তাইজসহ বিভিন্ন এলাকায় এবং দেশটির পশ্চিম উপকূলজুড়ে হুতিদের অবস্থান লক্ষ্য করে এসব হামলা চালানো হয়েছে।
তিনি জানান, হামলায় হুতিদের কামান ও রকেট নিক্ষেপের অবস্থান, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, সরবরাহ ও চলাচলের পথ, রসদ পরিবহনের রুট, সেনাদের অবস্থান এবং কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র লক্ষ্য করা হয়েছে।
ইয়েমেনি বাহিনীর দাবি, এসব অভিযানে যুদ্ধবিমান, ড্রোন, কামান, ক্ষেপণাস্ত্র, রকেট লঞ্চার ও স্নাইপার ব্যবহার করা হয়েছে।
এ ছাড়া সামরিক পরিবহন ও সরবরাহের কাজে ব্যবহৃত যানসহ ৩৬৪টি যান ও সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও দাবি করেছে ইয়েমেনি বাহিনী।
হুতিদের নিয়ন্ত্রিত এলাকা পুনর্দখলের ঘোষণা
এর আগে রোববার ইয়েমেনের প্রেসিডেনশিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান রাশাদ আল-আলিমি হুতিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা বাকি এলাকাগুলো পুনর্দখলে সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন, এই অভিযান সানা, সাদা কিংবা দেশের অন্য কোনো প্রদেশের সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে নয়।
২০১৪ সাল থেকে ইয়েমেনের রাজধানী সানাসহ দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকা হুতিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। দীর্ঘদিনের এই সংঘাতের কারণে দেশটিতে রাজনৈতিক ও মানবিক সংকট অব্যাহত রয়েছে।
তবে ইয়েমেনি বাহিনীর দেওয়া ১ হাজার ১২২টি হামলা, ১ হাজার ৭৪৭ জন হুতির নি’হত বা অক্ষম হওয়ার দাবি এবং ৩৬৪টি সামরিক যান ও সরঞ্জাম ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

