ইরানের সীমান্ত থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এক হাজার কিলোমিটারের বেশি দূরে সরে গেছে বলে দাবি করেছেন ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) জ্যেষ্ঠ কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল আলী ফাদাভি। তার দাবি, ইরানের সামরিক সক্ষমতার কারণেই মার্কিন বাহিনীকে ওই অবস্থান নিতে হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম প্রেস টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফাদাভি বলেন, ‘আমেরিকানরা পালিয়ে গেছে এবং আমাদের সীমান্ত থেকে এক হাজার কিলোমিটারের বেশি দূরে সরে গেছে।’ তার ভাষ্য, এটি যুক্তরাষ্ট্রের স্বেচ্ছায় নেওয়া সিদ্ধান্ত নয়; বরং ইরান ও আইআরজিসির সামরিক সক্ষমতার কারণে তারা পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে।
ফাদাভি আরও দাবি করেন, প্রথমবারের মতো পারস্য উপসাগর, হরমুজ প্রণালি, ওমান সাগর এমনকি উত্তর ভারত মহাসাগরেও বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো নৌযান নেই। তার দাবি, হরমুজে অবস্থান নিলে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো ইরানের হামলার ঝুঁকিতে পড়বে।
তবে এসব দাবি ইরানি সামরিক কর্মকর্তার বক্তব্য হিসেবে এসেছে; স্বাধীনভাবে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি এক হাজার কিলোমিটার পিছিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার তথ্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
হরমুজ নিয়ে ইরানের সাত শর্ত
ফাদাভির এই বক্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলা নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, জুনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া অন্তর্বর্তী সমঝোতায় নির্ধারিত সাতটি শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খোলা হবে না।
গালিবাফের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র গণমাধ্যমে এক ধরনের বক্তব্য দিলেও মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে সম্প্রতি ভিন্ন কিছু প্রস্তাব দিয়েছে। একতরফা দাবি চাপিয়ে দেওয়া বা আলোচনা দীর্ঘায়িত করার সময় শেষ হয়ে গেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও জানিয়েছিলেন, ওয়াশিংটন তেহরানের প্রস্তাব গ্রহণ করলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া সম্ভব। বিদেশি রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি বলেন, প্রণালি খোলার জন্য ইরানের শর্তগুলো যুক্তরাষ্ট্রের কিছু প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সম্পর্কিত।
অবরোধ ও নৌ চলাচল
ইরানের দাবি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ এবং হরমুজ ঘিরে সামরিক উত্তেজনার কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এর আগে ইরান জানিয়েছিল, হরমুজে স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুনরায় চালু করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনা চলছে।
অন্যদিকে ইরানি কর্মকর্তারা বলছেন, হরমুজ পুনরায় খুলতে হলে প্রথমে ওয়াশিংটনকে তেহরানের নির্ধারিত শর্তগুলো মেনে নিতে হবে। গালিবাফের বক্তব্য অনুযায়ী, ওই শর্তগুলো জুনের ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা’র সঙ্গে সম্পর্কিত।
হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। ফলে এ অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা ও নৌ চলাচলে বিঘ্ন অব্যাহত থাকলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

