Saturday, August 8

যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ সীমিত করতে নতুন একটি প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

১৮৬৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর মাধ্যমে দেশটির ভূখণ্ড, জলসীমা বা আকাশসীমায় জন্ম নেওয়া শিশুদের জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের অধিকার নিশ্চিত করা হয়। মূলত মার্কিন গৃহযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে আফ্রিকান বংশোদ্ভূত দাসদের সন্তানদের অধিকার সুরক্ষার উদ্দেশ্যে এ সংশোধনী কার্যকর করা হয়েছিল।

ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই আইনের সুযোগ নিয়ে ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বা সন্তান জন্মের মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এ ধরনের অপব্যবহার বন্ধ করতেই নতুন নির্বাহী আদেশ জারি করা হয়েছে।

প্রেসিডেন্টের স্বরাষ্ট্র ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাবিষয়ক উপদেষ্টা স্টিফেন মিলার বলেন, নতুন আদেশের ফলে বিদেশি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ও অবৈধভাবে নাগরিকত্ব লাভের চেষ্টা করা ব্যক্তিদের কার্যক্রম কঠিন হয়ে পড়বে।

নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষরের পর ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, জন্মগত নাগরিকত্বের সুবিধার অপব্যবহার দীর্ঘদিন ধরে চলেছে এবং এটি বন্ধ করা জাতীয় দায়িত্ব।

অভিবাসনবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ইমিগ্রেশন স্টাডিজ-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার দম্পতি যুক্তরাষ্ট্রে যান। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ সংখ্যা আরও বেড়েছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।

তবে ট্রাম্পের নতুন পদক্ষেপ আবারও আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দ্বিতীয় মেয়াদে ২০২৫ সালেও একই ধরনের উদ্যোগ নিলে দুটি ফেডারেল আদালত তা স্থগিত করেছিলেন। পরে গত ৩০ জুন মার্কিন সুপ্রিম কোর্টও ৬-৩ ভোটে ট্রাম্প প্রশাসনের আপিল খারিজ করে সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর অবস্থান বহাল রাখে।

সাবেক বাইডেন প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং মানবাধিকার সংস্থা UnidosUS-এর নির্বাহী ডেবোরাহ ফ্লেইসচাকার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে ১৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের এই নীতি কার্যকর রয়েছে। তার মতে, সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক রায়ের পর নতুন এই নির্বাহী আদেশও আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

Leave A Reply


Math Captcha
45 − = 35