Friday, November 6

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে প্রথমবারের মতো একটি কার্যকর কৃত্রিম ভাইরাস তৈরি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীরা। এই সাফল্যকে বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হলেও একই সঙ্গে জৈবনিরাপত্তা ও নৈতিকতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা এআইয়ের সহায়তায় একটি ভাইরাসের সম্পূর্ণ জিনোম বা জিনগত নকশা তৈরি করেন। পরে সেই নকশা ব্যবহার করে গবেষণাগারে কৃত্রিম ভাইরাস তৈরি করা হয়। পরীক্ষায় দেখা যায়, তৈরি করা ভাইরাসটি কোষের ভেতরে বংশবিস্তার করতে পারে এবং নির্দিষ্ট ধরনের ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতেও সক্ষম।

গবেষকদের দাবি, ইতিহাসে এই প্রথম এআইয়ের মাধ্যমে একটি পূর্ণাঙ্গ ভাইরাসের জিনোম তৈরি করা হয়েছে, যা পরবর্তী সময়ে বাস্তবে কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।

গবেষণায় ‘ইভো-১’ ও ‘ইভো-২’ নামের দুটি এআই মডেল ব্যবহার করা হয়। চ্যাটজিপিটির মতো ভাষাভিত্তিক এআই মডেলের সঙ্গে তুলনীয় হলেও এসব মডেল মানুষের ভাষার পরিবর্তে কোটি কোটি জীবের জিনগত তথ্য বিশ্লেষণ করে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে তারা নতুন জিনোমের সম্ভাব্য নকশা তৈরি করতে পারে।

গবেষকেরা এআইয়ের মাধ্যমে হাজার হাজার সম্ভাব্য জিনোমের নকশা তৈরি করেন। সেখান থেকে ৩০২টি নকশা বাছাই করে গবেষণাগারে পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় ১৬টি ভাইরাস সফলভাবে ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতে সক্ষম হয়।

বিজ্ঞানীদের মতে, এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে চিকিৎসাবিজ্ঞানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী ‘সুপারবাগ’ ধ্বংস, জিনগত রোগের চিকিৎসা এবং ক্যানসারের নতুন ওষুধ তৈরিতে এ প্রযুক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে এ সাফল্যের পাশাপাশি জৈবনিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে কেউ এআই ব্যবহার করে ক্ষতিকর ভাইরাসের নকশা তৈরি করতে সক্ষম হলে তা বড় ধরনের জৈবনিরাপত্তা হুমকিতে পরিণত হতে পারে।

জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা সতর্ক করে বলেছেন, মানুষ বা অন্যান্য জটিল প্রাণীকে আক্রমণ করতে সক্ষম এমন কৃত্রিম ভাইরাস তৈরির প্রযুক্তি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন।

অবশ্য স্ট্যানফোর্ডের গবেষকদের দাবি, তাদের গবেষণায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থা অনুসরণ করা হয়েছে। মানুষের জন্য ক্ষতিকর কোনো ভাইরাস তৈরি করা হয়নি এবং এআই মডেলকেও এ ধরনের ক্ষতিকর তথ্য দেওয়া হয়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই ব্যবহার করে জীবের জিনগত নকশা তৈরির প্রযুক্তি চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে। তবে একই সঙ্গে এর অপব্যবহার ঠেকানো এবং নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করাই আগামী দিনের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।

Leave A Reply


Math Captcha
− 3 = 1