Thursday, November 5

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির পরাজয়কে স্বাগত জানিয়েছে ইরান। দেশটির কর্মকর্তাদের দাবি, নির্বাচনের ফলাফলের মধ্য দিয়ে মার্কিন ভোটাররা ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধের বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তবে নতুন করে মার্কিন সামরিক হামলার আশঙ্কায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে তেহরান।

ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে লিখেছেন, বিবেকের তাড়নায় হোক কিংবা জীবনযাত্রার ব্যয়ের কারণে—আমেরিকানরা যুদ্ধকে ‘না’ বলেছে। ইরান এই বার্তাকে সমর্থন করে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরানে আবার হামলা চালিয়ে ওয়াশিংটনের উচিত হবে না মার্কিন জনমতকে উপেক্ষা করা।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এক লিখিত বিবৃতিতে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে যে দলই ক্ষমতায় থাকুক না কেন, দেশটির শত্রুতা অব্যাহত থাকবে। যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সামান্যতম নতি স্বীকার না করার বিষয়েও সতর্ক করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের আধিপত্যের অবসানকে এখনো দূরের বিষয় মনে করলেও ইরানের কাছে তা আসন্ন।

মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের দুই কক্ষ—সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটিতেও ডেমোক্র্যাটদের জয়কে ট্রাম্পের অর্থনীতি পরিচালনা এবং ইরান যুদ্ধের সিদ্ধান্ত নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষের প্রতিফলন হিসেবে দেখছে তেহরান।

নির্বাচনের পর আবারও যুদ্ধ শুরু হতে পারে—এমন আশঙ্কায় সংঘাত বন্ধে মধ্যস্থতাকারীরা তৎপরতা বাড়িয়েছেন। মঙ্গলবার ট্রাম্প সামরিক অভিযান পুনরায় শুরুর সম্ভাবনা নাকচ করেননি। অন্যদিকে, যুদ্ধ নতুন করে শুরু হলে আরও বড় ধরনের পাল্টা হামলার পরিকল্পনা করেছে ইরান।

নির্বাচনের আগে ইরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা রয়টার্সকে জানিয়েছিলেন, ট্রাম্পকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা ইচ্ছাকৃতভাবে দীর্ঘায়িত করছে তেহরান।

তবে ট্রাম্প নির্বাচনে ইরান যুদ্ধের প্রভাবের কথা স্বীকার করলেও ফক্স নিউজকে বলেছেন, ভোটাররা ইরান নিয়ে তাঁর পদক্ষেপের গুরুত্বও বুঝেছেন। এদিকে মোজতবা খামেনির বক্তব্যে ইঙ্গিত মিলেছে, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এবং যুদ্ধ বন্ধের শর্ত নিয়ে নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসতে প্রস্তুত নয় তেহরান।

সূত্র: রয়টার্স।

Leave A Reply


Math Captcha
+ 15 = 21