ইরানের সামরিক বাহিনী ও বিমান চলাচল খাতকে সহায়তার অভিযোগে ভারত ও তুরস্কের কয়েকজন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কর্তৃপক্ষের দাবি, এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে ইরানকে তেল পরিবহন এবং বিমানবন্দর-সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা দিয়ে আসছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ দপ্তরের অভিযোগ, ভারতের নাগরিক বিবেক শর্মা ও তার স্ত্রী একটি নেটওয়ার্ক পরিচালনা করতেন। এই নেটওয়ার্ক ইরানের সামরিক বাহিনী ও তাদের মিত্রদের হয়ে তেল পরিবহনকারী নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত জাহাজগুলোর জন্য ভুয়া পতাকা ও সনদ সরবরাহ করেছে। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে জাহাজগুলো চলাচলের সুযোগ পেয়েছে বলে দাবি করেছে ওয়াশিংটন।
মার্কিন অর্থ দপ্তর জানায়, শর্মা ও তার স্ত্রী গায়ানা, এসওয়াতিনি ও লাওসের মতো দেশের প্রতিনিধিত্ব করার ভুয়া দাবি করে জাহাজের পতাকা ও বিভিন্ন সনদ দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন। এ উদ্দেশ্যে তারা একাধিক ওয়েবসাইট ও প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জাহাজ নিবন্ধন, নাবিকদের প্রশিক্ষণ ও সনদ প্রদান এবং জাহাজের শ্রেণিবিন্যাসের মতো সেবা দেওয়া হতো।
এ ছাড়া ইরানের বিমান চলাচল খাতকে সহায়তার অভিযোগে তুরস্কভিত্তিক ফুগো গ্রাউন্ড সার্ভিসেস ইনকরপোরেশনকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় এনেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন অর্থ দপ্তরের দাবি, প্রতিষ্ঠানটি ইরানের নিষেধাজ্ঞাভুক্ত কয়েকটি বিমান সংস্থাকে বিমানবন্দরে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংসহ বিভিন্ন সেবা দিয়ে আসছিল। এসব সংস্থার মধ্যে রয়েছে ইরান এয়ার ট্যুর, সাহা এয়ারলাইনস, তাবান এয়ারলাইনস ও আতা এয়ারলাইনস।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, ইরান সরকারকে সহায়তা করা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া অব্যাহত রাখবে ওয়াশিংটন। স্থল, সমুদ্র কিংবা আকাশপথে যারা ইরানকে সহায়তা করবে, তাদেরও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
এদিকে নিষেধাজ্ঞা বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান অবসিডিয়ান রিস্ক অ্যাডভাইজরসের ব্যবস্থাপনা অংশীদার ব্রেট এরিকসনের মতে, নতুন এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানোর বার্তা দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। নির্বাচনে বড় ধাক্কা খাওয়ার পরও ওয়াশিংটন উত্তেজনা কমানোর পথে এগোতে আগ্রহী নয় বলে মনে করেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়ের পরদিনই নতুন নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা এলো। নির্বাচনে ইরান যুদ্ধ এবং এর কারণে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রভাব নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষের বিষয়টি স্বীকার করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে সামরিক সংঘাতে জড়ানোর সিদ্ধান্তকে সঠিক বলে দাবি করেছেন তিনি। অন্যদিকে, ইরান যুদ্ধের অবসানের সম্ভাবনা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের হিসাব-নিকাশের মধ্যে ওঠানামার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
সূত্র: রয়টার্স।

