আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ৪ আগস্ট ২০২৬
হামাসের সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত গাজা উপত্যকা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার করা হবে না বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বোর্ড অব পিস। ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্যোগে গাজা-পরবর্তী প্রশাসন তদারকির জন্য গঠিত সংস্থাটির পরিচালক নিকোলাই ম্লাদেনভ ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বৈঠকের পর এ অবস্থান স্পষ্ট করা হয়।
সোমবার (৩ আগস্ট) পশ্চিম জেরুজালেমে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠক এমন সময় হয়েছে, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত নতুন গাজা সমঝোতা পরিকল্পনা নিয়ে ইসরায়েলের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক বাড়ছে।
বৈঠকের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে বোর্ড অব পিস জানায়, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিপরীতে ইসরায়েলি বাহিনী তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইন’–এর পেছনে সরে যাবে কেবল তখনই, যখন হামাস মধ্যস্থতাকারীদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সব ধরনের অস্ত্র, ভারী অস্ত্র এবং ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ সম্পূর্ণভাবে নিষ্ক্রিয় করবে।
সংস্থাটি জানায়, গাজায় অস্ত্রের শাসনের পরিবর্তে বেসামরিক প্রশাসন প্রতিষ্ঠাই তাদের মূল লক্ষ্য। স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করতে হামাসের পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণকে অপরিহার্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে হামাস জানিয়েছে, ইসরায়েল নিজ দায়িত্ব পালন না করলে তারা চুক্তির পরবর্তী ধাপ বাস্তবায়ন করবে না। সংগঠনটির দাবি, সমঝোতার দ্বিতীয় ধাপ কার্যকর করতে মধ্যস্থতাকারীদের কাছ থেকে এখনো স্পষ্ট ও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।
বার্তা সংস্থা এপি–র তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকে নিকোলাই ম্লাদেনভ নেতানিয়াহুকে গাজায় চলমান হামলা বন্ধের আহ্বান জানান। তবে ইসরায়েল এখনো সামরিক অভিযান অব্যাহত রেখেছে। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবরের যুদ্ধবিরতির পরও গাজায় এক হাজার ২০০–এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
এ ছাড়া ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের দাবি, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধে গাজায় নিহতের সংখ্যা ৭৩ হাজার ছাড়িয়েছে।
এদিকে নেতানিয়াহুর কার্যালয় দাবি করেছে, প্রকাশিত সমঝোতা নথি ইসরায়েলের প্রকৃত অবস্থান প্রতিফলিত করে না। এ বিষয়ে তাদের উদ্বেগ ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে জানানো হয়েছে।
ইসরায়েলের জোট সরকারের কট্টরপন্থী নেতারাও চুক্তির বিরোধিতা করেছেন। অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ বলেছেন, প্রকাশিত সমঝোতা সরকার অনুমোদিত নথির সঙ্গে মিল নেই। তিনি বিষয়টি নিয়ে নতুন করে মন্ত্রিসভার ভোটের দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে মধ্যস্থতাকারী দেশ মিশর, কাতার ও তুরস্ক যৌথ বিবৃতিতে গাজায় বেসামরিক নাগরিক ও স্বাস্থ্যসেবা স্থাপনায় হামলার নিন্দা জানিয়েছে। তারা এসব হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন উল্লেখ করে যুদ্ধবিরতি কার্যকর ও বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।

