Saturday, April 18

নরসিংদীতে ধর্ষণের বিচার চাওয়াকে কেন্দ্র করে বাবার কাছ থেকে তুলে নিয়ে এক কিশোরীকে হত্যার ঘটনায় ৯ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে নিহত কিশোরীর মা বাদী হয়ে মাধবদী থানায় মামলাটি করেন। রাতেই মামলার এজাহারভুক্ত পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারদের মধ্যে ইউনিয়ন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর এক নেতা ও তাঁর ছেলে রয়েছেন।

গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সদর উপজেলার মহিষাশুড়া ইউনিয়নের বিলপাড় ও দড়িকান্দীর মধ্যবর্তী একটি শর্ষেখেত থেকে কিশোরীর লাশ উদ্ধার করা হয়। মহিষাশুড়া ইউনিয়নের একটি এলাকায় ভাড়া বাসায় বাবা, মা ও ভাইয়ের সঙ্গে বসবাস করত সে। তার বাবা ও ভাই স্থানীয় একটি টেক্সটাইল মিলে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। তাদের বাড়ি বরিশালে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মহিষাশুড়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আহম্মদ আলী দেওয়ান (৬৫), তাঁর ছেলে ইমরান দেওয়ান (৩২) এবং মো. এবাদুল্লাহ (৩৫), আইয়ুব আলী (৩০) ও মো. গাফফার (৩৭)।

মামলার এজাহারের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, স্থানীয়ভাবে বখাটে হিসেবে পরিচিত নূরা নামের এক তরুণের সঙ্গে কিশোরীর কথাবার্তা ছিল। প্রায় ১৫ দিন আগে নূরার নেতৃত্বে পাঁচ থেকে ছয়জন তরুণ কিশোরীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে বলে পরিবারের অভিযোগ। এ ঘটনায় বিচার চেয়ে পরিবারটি আহম্মদ আলী দেওয়ানের কাছে গেলে তারা কোনো বিচার পায়নি। অভিযোগ রয়েছে, এ কারণে অভিযুক্তরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।

পরিবারের অভিযোগ, গত বুধবার রাতে মেয়েকে খালার বাড়িতে রেখে আসতে যাওয়ার পথে বিলপাড় এলাকায় নূরার নেতৃত্বে ছয়জন তরুণ বাবার কাছ থেকে কিশোরীকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। রাতভর খোঁজাখুঁজির পর গতকাল সকাল সাড়ে ৯টার দিকে স্থানীয় লোকজন বিলপাড় ও দড়িকান্দীর মাঝামাঝি একটি শর্ষেখেতে কিশোরীর লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।

নিহতের পরিবারের সদস্যদের দাবি, ধর্ষণের ঘটনার বিচার করার কথা বলে আহম্মদ আলী দেওয়ান অভিযুক্তদের সঙ্গে আপস করে অর্থ গ্রহণ করেন এবং ঘটনাটি ধামাচাপা দেন। পাশাপাশি পরিবারটিকে এলাকা ছাড়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়। বিচার না হওয়ায় অভিযুক্তরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে এবং শেষ পর্যন্ত কিশোরীকে হত্যা করে।

মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামাল হোসেন জানান, নিহতের মা নয়জনকে আসামি করে মামলা করেছেন। এর মধ্যে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রধান আসামি নূরাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালাচ্ছে।

Leave A Reply


Math Captcha
− 1 = 1