Thursday, October 8

মহেশখালীর সোনাদিয়া চ্যানেলে জলদস্যুদের হামলায় গুরুতর আহত আটজন মাঝিমাল্লাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। একই ঘটনায় তিনটি ফিশিং ট্রলারসহ ২৪ জন মাঝিমাল্লা নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় জেলে ও বোট মালিকরা।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ভোররাতে মহেশখালী থেকে আহত মাঝিমাল্লাদের চিকিৎসার জন্য চমেক হাসপাতালে নেওয়া হয়। স্থানীয়দের দাবি, গত তিন দিনে সোনাদিয়া চ্যানেলের ‘১২ বাম’ এলাকায় অন্তত ১৫টি ফিশিং ট্রলারে হামলা চালিয়েছে একটি সশস্ত্র জলদস্যু দল। এতে অন্তত ২০ জন মাঝিমাল্লা আহত হয়েছেন।

চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আটজন হলেন—মাহমুদুল হক মাঝি (৩৯), লকিয়ত উল্লাহ (৩৩), আব্দুল মান্নান (৩৪), আব্দুল মজিদ (৩৩), সাইফুল ইসলাম (৩০), মো. হাসান (২৬), সামুন (২৫) ও কামাল হোসেন মাঝি (৩৯)। হামলায় আহত অন্যদের মহেশখালী ও কক্সবাজারের বিভিন্ন হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

চিকিৎসাধীন মাহমুদুল হক মাঝি জানান, সাগরে মাছ ধরার সময় ছোট ছোট বোটে করে সশস্ত্র জলদস্যুরা তাদের ট্রলারে হামলা চালায়। পরে ট্রলারে উঠে লুটপাটের পাশাপাশি মাঝিমাল্লাদের জিম্মি করে মারধর করা হয়।

তিনি বলেন, সাগরে নিরাপত্তা জোরদার না হলে ফিশিং বোট নিয়ে মাছ ধরতে যাওয়া নিরাপদ নয়। জলদস্যুদের ভয়ে বর্তমানে জেলেদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

কালারমারছড়া জেলে কল্যাণ মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আমির হোসেন জানান, গত শুক্রবার থেকে রোববার পর্যন্ত সোনাদিয়া চ্যানেলের পশ্চিমে ‘১২ বাম’ এলাকায় ১০ থেকে ১২ জনের একটি সশস্ত্র দল একের পর এক ফিশিং ট্রলারে হামলা চালায়।

তার দাবি, অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে প্রতিটি ট্রলার থেকে মাছ, জাল, জ্বালানি তেল, খাদ্যসামগ্রী, মোবাইল ফোন, নগদ টাকা ও ইঞ্জিনের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশসহ প্রায় ৭ থেকে ৮ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে দস্যুরা।

আক্রান্ত ট্রলারগুলোর মধ্যে মহেশখালীর কালারমারছড়া ইউনিয়নের মোহাম্মদ শাহ ঘোনা ঘাটের নয়টি ট্রলার রয়েছে। আহত মাঝিমাল্লারা গত ৫ অক্টোবর বিকেলে ঘাটে ফিরে এলে তাদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়।

তবে তিনটি ফিশিং ট্রলারসহ ২৪ জন মাঝিমাল্লা এখনো নিখোঁজ থাকায় তাদের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

এদিকে সাগরে জলদস্যুদের অপতৎপরতা ও ডাকাতি প্রতিরোধে অভিযান জোরদার করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। কক্সবাজার, মহেশখালী ও কুতুবদিয়া সংলগ্ন সমুদ্র এলাকায় টহল ও বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, জলদস্যু ও ডাকাতদের দমনে নিয়মিত টহলের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। শিগগিরই সাগরে দস্যুদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে বলেও জানান তিনি।

সংবাদ প্রেরক: মনছুর আলম মুন্না, স্টাফ রিপোর্টার, কক্সবাজার

Leave A Reply


Math Captcha
36 + = 41