Thursday, October 8

শাড়ির আঁচল কোমরে গুঁজে, পায়ে কোনো জুতা নেই—এভাবেই রাঙামাটির মেঠোপথ পেরিয়ে মাত্র ছয় মিনিটে ১ হাজার ৬০০ মিটার দৌড় শেষ করেছেন ঝাড়খণ্ডের ২৭ বছর বয়সি কবিতা কুমারী। হোম গার্ডের চাকরির শারীরিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার স্বপ্নে তার এই অদম্য প্রচেষ্টার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

ঝাড়খণ্ডের রামগড় জেলার সসো গ্রামের বাসিন্দা কবিতা। তিন বছর আগে দীর্ঘ অসুস্থতার পর মা’রা যান তার স্বামী দীপক মাহাতো। এরপর দুই সন্তানকে নিয়ে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হন তিনি। সংসারের দায়িত্ব সামলাতে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সিকিউরিটি গার্ডের চাকরি নেন কবিতা। পাশাপাশি পরিবারের ভবিষ্যৎ বদলাতে সরকারি চাকরির স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন।

পুলিশ বা হোম গার্ডের নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য প্রতিদিন ভোর ৪টায় ঘুম থেকে উঠতেন কবিতা। সন্তানদের ঘুম ভাঙার আগেই সাধারণ পোশাকে গ্রামের মেঠোপথে দৌড়ের অনুশীলন করতেন। তবে অনুশীলনের জন্য আলাদা ট্র্যাকস্যুট কিংবা দৌড়ের জুতা কেনার সামর্থ্য ছিল না তার। তাই যা ছিল, তা নিয়েই প্রস্তুতি চালিয়ে যান তিনি।

অফিশিয়াল শারীরিক পরীক্ষার আগে স্থানীয় একটি ট্রেনিং একাডেমি সম্প্রতি ট্রায়াল রানের আয়োজন করে। সেখানে অন্য প্রার্থীদের সঙ্গে অংশ নেন কবিতা। শাড়ি পরেই, খালি পায়ে গরম পিচের ওপর দৌড় শুরু করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত মাত্র ছয় মিনিটে ১ হাজার ৬০০ মিটারের নির্ধারিত দূরত্ব অতিক্রম করেন।

কবিতার এই পারফরম্যান্সে বিস্মিত হন ট্রেইনার ও উপস্থিত দর্শকরা। সীমিত সামর্থ্য ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তার প্রস্তুতি ও দৃঢ়তা সবার নজর কাড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার দৌড়ের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর প্রশংসা করছেন অনেকে।

আগামী ২৪ অক্টোবর থেকে ৫ নভেম্বরের মধ্যে ঝাড়খণ্ড হোম গার্ডের অফিশিয়াল শারীরিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। রামগড় জেলায় মোট ২৮৪টি শূন্যপদে নিয়োগ দেওয়া হবে। এর মধ্যে ৫০ শতাংশ পদ নারীদের জন্য সংরক্ষিত। পাশাপাশি বিধবা ও তালাকপ্রাপ্ত নারীদের জন্য রয়েছে আরও ৫ শতাংশ বিশেষ সংরক্ষণ।

এই নিয়োগ পরীক্ষায় সফল হয়ে দুই সন্তানকে নিয়ে নতুনভাবে জীবন শুরু করতে চান কবিতা। সেই লক্ষ্যেই প্রতিকূলতাকে সঙ্গী করে প্রতিদিন প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

Leave A Reply


Math Captcha
− 3 = 1