গাজীপুরের টঙ্গীতে রান্না করার সময় শরীরে আগুন লেগে গুরুতর দগ্ধ হওয়ার চার দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মা’রা গেছেন মোসাম্মৎ শিলা খাতুন (৩০) নামে এক গৃৃহবধূ।
নি’হত শিলা খাতুন টঙ্গীর এরশাদনগরের ৫ নম্বর ব্লকের বাসিন্দা। তার বাবার নাম সাত্তার মন্ডল ও মায়ের নাম সুফিয়া বেগম। স্বামী মো. সোহেল পেশায় ব্যবসায়ী। বিয়ের পর গত ১০ বছর ধরে স্বামী ও দুই সন্তানকে নিয়ে সংসার করছিলেন শিলা। তাদের ছেলে সাবিল (৪) ও মেয়ে সায়মা (৮)।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৩ অক্টোবর দুপুর ১২টার দিকে নিজ ঘরে রান্না করছিলেন শিলা। এ সময় রান্নার চুলা থেকে কোনোভাবে তার পরনের কাপড়ে আগুন লেগে যায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন শরীরের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে। ওই সময় ঘরে অন্য কেউ না থাকায় জীবন বাঁচাতে চিৎকার করতে থাকেন তিনি।
শিলার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। সেখানে চার দিন ধরে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।
তবে চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে বুধবার (৭ অক্টোবর) ভোর ৬টার দিকে মা’রা যান শিলা।
শিলার চাচা মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম বলেন, শিলা ও তার স্বামীর মধ্যে কোনো অমিল ছিল না। পারিবারিক কোনো কলহও ছিল না। এটি সম্পূর্ণ দুর্ঘটনা। এ ঘটনায় পরিবারের কোনো অভিযোগ নেই। তারা মামলা-মোকদ্দমা বা ময়নাতদন্তও চান না।
টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাকসুদুল আলম বলেন, ঘটনাটি তিনি শুনেছেন এবং এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। পরিবারের আপত্তি না থাকলে আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

