- মনছুর আলম মুন্না, (স্টাফ রিপোর্টার)
“বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতের শহর ও দেশের একমাত্র পর্যটনের রাজধানী কক্সবাজার শহর জুড়েই এখন টমটম আর মিশুকসহ নানা ধরনের অবৈধ অটো গাড়ীতেই ভরপুর। শহরের প্রধান ফটক বাসটার্মিনাল এলাকা হয়ে খুরুশকুল রাস্তার মাথা, কালুর দোকান, বাজারঘাটা, পানবাজার রোড থেকে লালদিঘির পাড় হয়ে শহীদ স্বরনী রোড পর্যন্ত নিয়মিত ঘন্টার পর ঘন্টা জ্যাম লেগেই থাকে। অন্যদিকে কলাতলি ডলফিন মোড় থেকে শুরু করে লাবনী পর্যন্ত যানজটের চিত্র যেন এক ভয়াবহ অবস্থা। মাত্রাতিরিক্ত যানজটের কারণে শহরবাসীর অবস্থা একেবারেই নাকাল। সকাল ১০ টার পর থেকে রাত সাড়ে ১০ টার আগপর্যন্ত একাধারে লেগেই থাকে যানজট। তবে চোখ যতদূর যায় মিশুক আর টমটমে ছাড়া কোন গাড়ীর দেখায় মেলে না।
অনেকেই এসবকে দায়ী করছেন ট্রাফিক পুলিশের অব্যবস্থাপনা ও অবৈধ ঘুষ লেনদেন। শহরের প্রধান প্রধান সড়কে ফিটনেসবহীন যানবাহনের বৈধতা দেন ট্রাফিক পুলিশ। মাঝে মাঝে অভিযানের নামে নাটকীয়তা দেখিয়ে টোকেন বাণিজ্য করেন খোদ ট্রাফিক পুলিশের কর্মকর্তারা।
এদিকে দীর্ঘদিন ধরে পুরো শহরজুড়ে এমন পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে জেলা পুলিশের ট্রাফিক ব্যবস্থার বিশাল একটি অংশ। জনগণের অভিযোগ আর এমন পরিস্থিতি সামাল দেয়া-নেয়া নিয়ে বিশাল একটি শক্তিশালী সেন্ডিকেটও জড়িয়ে পড়ছে বলেও জানা যায়। তবে মিশুক আর টমটম চলাচলে শিথিল করতে গেলেই এসব গাড়ী চালকরা রাজনৈতিক নেতাদের ইন্ধনে সড়ক অবরোধ করে মিছিল করতেও দেখা যায়। মিছিল বের করে তারা কক্সবাজার শহরজুড়েই একটি উশৃংখল পরিস্থিতি তৈরি করে।
স্থানীয় এক ব্যাংক কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সকালটা কোনরকম কষ্ট করে বাসা থেকে বের হয়ে অফিসে আসি। কিছুক্ষণ পর যদি অফিসের কোন কাজে বের হয়, তখন পুরো রাস্তা জুড়েই অবৈধ যানবাহনের কারণে যানজট লেগেই থাকে। রাস্তায় তেমন একটা ট্রাফিক পুলিশের তৎপর দেখা যায়না। কিছু কিছু ট্রাফিক পুলিশদের দেখা গেলেও তারা মোটরসাইকেল ধরে ধরে গোপনে টাকা নেয়, না হয় মামলার টোকেন ধরিয়ে দেয়। অথচ মিশুক আর টমটমের কোন বৈধতা না থাকা সত্বেও এসব গাড়ী শহরে যানজট তৈরি করছে।
আমরা কক্সবাজারবাসীর সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দীন বলেন, বর্তমানে কক্সবাজারে অতিরিক্ত মিশুক আর টমটমে ভরপুর। অধিকাংশের কোন বৈধতা নেই। ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে কোন পদক্ষেপও নেই। কিন্তু এসব টমটম আর মিশুককে ঘিরে বাণিজ্য করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে ট্রাফিক পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তারা। তবে ট্রাফিক পুলিশ চাইলেই শহরের মধ্যে নিমিষেই যানজট মুক্ত করতে পারে।
এদিকে পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও সাংবাদিক নেতা কলিম উল্লাহ বলেন, ট্রাফিক পুলিশের টিএসআই থেকে ওসি, এএসপি পর্যন্ত এসব মিশুক আর টমটমকে ঘিরে অবৈভাবে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। যদিওবা এসব অভিযোগকে সংশ্লিষ্টরা গুরুত্ব দিবেনা। চাইলেই মুহূর্তের মধ্যেই শহরের যানজট মুক্ত করতে পারে। কিন্তু তারা ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নতি না করে, শহরে জুড়েই অবৈধ এসব যানবাহনকে মাসিক আর সাপ্তাহিক টোকনে বৈধতা দেন। এককথায় শহরের এসব যানযটের জন্য দায়ী ট্রাফিক বিভাগ।
এছাড়াও শহরে রাস্তা দিয়ে চলাচল করা শিক্ষানুরাগী, সামজিক ও রাজনৈতিক নেতা, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী থেকে সাধারণ মানুষরও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই শহর এখন পর্যটনের শহর নাই, টমটম আর মিশুকের শহর। অধিকাংশদের মধ্যে রোহিঙ্গারা এসব গাড়ীগুলো ভাড়ায় চালান। তাদের কারণেই আজকের এই শহরের পরিস্থিতি। জেলা পুলিশের ট্রাফিক পুলিশরাই দায়ী।
বিষয়টি নিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) (ট্রাফিক) দেবদূত মজুমদারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যানজটের বিষয়টি আমাদের নজরে আসছে, খুব শীগ্রই আমরা যানজট মুক্ত করতে চেষ্টা চালাচ্ছি। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে দ্রুত কাজ করব।

