Saturday, April 18

ফুটবল বিশ্বায়নের এই যুগে অনেক ফুটবলারই তাদের জন্মভূমির পরিবর্তে অন্য দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। বিশেষ করে ফ্রান্স, জার্মানি কিংবা ইতালির মতো শক্তিশালী দলগুলোতে এমন বহু তারকা আছেন, যাদের জন্ম অন্য দেশে হলেও তারা সেই দেশের হয়ে ফিফা বিশ্বকাপ জিতেছেন। বিশ্বকাপ ইতিহাসে শিরোপা জেতা ২২টি দলের মধ্যে অন্তত ১০টিতে দেশের বাইরে জন্ম নেওয়া একজন বা একাধিক খেলোয়াড় ছিলেন।

ইতালি, ১৯৩৪
১৯৩৪ সালের বিশ্বকাপজয়ী ইতালি দলে ছিলেন বেশ কয়েকজন বিদেশে জন্ম নেওয়া ফুটবলার। আর্জেন্টিনায় জন্ম নেওয়া আত্তিলিও ডেমারিয়া ইতালির হয়ে শিরোপা জেতেন। একইভাবে এনরিকো গুয়াইতা সেমিফাইনালে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জয়সূচক গোল করেন। লুইস মন্টি বিশ্বকাপ ইতিহাসে একমাত্র খেলোয়াড় যিনি দুটি ভিন্ন দেশের হয়ে ফাইনাল খেলেছেন—১৯৩০ সালে আর্জেন্টিনা এবং ১৯৩৪ সালে ইতালি। রাইমুন্ডো ওরসি ফাইনালে সমতাসূচক গুরুত্বপূর্ণ গোল করেন। এছাড়া ব্রাজিলে জন্ম নেওয়া আনফিলোজিনো গুয়ারিসি, ফ্রান্সে জন্ম নেওয়া ফেলিস বোরেল এবং বর্তমান ক্রোয়েশিয়ার রিজেকায় জন্ম নেওয়া মারিও ভার্গলিয়ানও ওই দলে ছিলেন।

ইতালি, ১৯৩৮
উরুগুয়েতে জন্ম নেওয়া মিগুয়েল আন্দ্রেওলো ইতালির হয়ে ১৯৩৮ সালের বিশ্বকাপ জয়ী দলের অন্যতম প্রধান মিডফিল্ডার ছিলেন। তাকে তৎকালীন বিশ্বের অন্যতম সেরা ‘সেন্টার-হাফ’ বলা হতো।

উরুগুয়ে, ১৯৫০
ইতালীয় বংশোদ্ভূত আর্নেস্তো ভিদাল, যার জন্ম বর্তমান ক্রোয়েশিয়ায়, ১৯৫০ সালের ঐতিহাসিক ‘মারাকানাজো’ ম্যাচে ব্রাজিলকে হারানো উরুগুয়ে দলের সদস্য ছিলেন।

পশ্চিম জার্মানি, ১৯৫৪
পোল্যান্ডে জন্ম নেওয়া রিচার্ড হারমান এবং রোমানিয়ায় জন্ম নেওয়া জোসেফ পোসিপাল ছিলেন ১৯৫৪ সালের বিশ্বকাপজয়ী পশ্চিম জার্মানি দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। পোসিপাল ছিলেন রক্ষণভাগের মূল স্তম্ভ।

পশ্চিম জার্মানি, ১৯৭৪
বেলজিয়ামের ইউপেনে জন্ম হার্বার্ট উইমার আন্তর্জাতিক ফুটবল খেলেছেন পশ্চিম জার্মানির হয়ে। অসাধারণ স্টামিনার জন্য তাকে ‘আইরন লাং’ বলা হতো।

ইতালি, ১৯৮২
লিবিয়ার ত্রিপোলিতে জন্ম নেওয়া ক্লাউদিও জেন্টিলে ১৯৮২ বিশ্বকাপে ইতালির রক্ষণভাগের অন্যতম ভরসা ছিলেন। তিনি ডিয়েগো ম্যারাডোনা ও জিকোর ম্যানমার্কার হিসেবে পরিচিত।

ফ্রান্স, ১৯৯৮
ঘানায় জন্ম নেওয়া মার্সেল দেশাইলি ফ্রান্সের রক্ষণভাগ সামলাতে বড় ভূমিকা রাখেন। ফাইনালে লাল কার্ড দেখেও শিরোপাজয়ী দলের সদস্য ছিলেন তিনি। সেনেগালে জন্ম নেওয়া প্যাট্রিক ভিয়েরা ফাইনালে ইমানুয়েল পেটিটের গোলের অ্যাসিস্ট করেন।

ইতালি, ২০০৬
আর্জেন্টিনায় জন্ম নেওয়া মাউরো কামোরানেসি ইতালির হয়ে ২০০৬ বিশ্বকাপ জেতেন। ইংল্যান্ডে জন্ম নেওয়া সিমোনে পেরোত্তা ইতালির হয়ে সব ম্যাচে খেলেছিলেন শিরোপা জয়ের পথে।

জার্মানি, ২০১৪
পোল্যান্ডে জন্ম নেওয়া মিরোস্লাভ ক্লোসা বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা (১৬)। একইভাবে পোল্যান্ডে জন্ম নেওয়া লুকাস পোডলস্কিও দলের সদস্য ছিলেন। পূর্ব জার্মানিতে জন্ম নেওয়া টনি ক্রুস একীভূত জার্মানির হয়ে বিশ্বকাপ জেতেন।

ফ্রান্স, ২০১৮
কঙ্গোতে জন্ম নেওয়া স্টিভ মান্দান্দা এবং ক্যামেরুনে জন্ম নেওয়া স্যামুয়েল উমতিতি ২০১৮ বিশ্বকাপজয়ী ফ্রান্স দলের অংশ ছিলেন। উমতিতি সেমিফাইনালে বেলজিয়ামের বিপক্ষে জয়সূচক গোল করেন।

জন্ম এক দেশে হলেও অন্য দেশের হয়ে বিশ্বকাপ জয়ের এই ঘটনাগুলো ফুটবলের বৈশ্বিক চরিত্র এবং বহুসাংস্কৃতিক দলের শক্তিরই প্রমাণ।

Leave A Reply


Math Captcha
− 4 = 2