Saturday, April 18

ভারতের বিপক্ষে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। তবে এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) কাছে তিনটি স্পষ্ট শর্ত তুলে ধরেছে সংস্থাটি।

রবিবার লাহোরে আইসিসির প্রতিনিধি দলের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে পিসিবির শীর্ষ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল উপস্থিত ছিলেন। আলোচনার মূল লক্ষ্য ছিল, কীভাবে সমঝোতার মাধ্যমে বহুল আলোচিত ভারত–পাকিস্তান ম্যাচটি নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আয়োজন করা যায়।

ক্রিকবাজের বরাতে জানা গেছে, ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার বিনিময়ে আইসিসির কাছে পিসিবির তিনটি দাবি হলো—
১) আইসিসির রাজস্ব বণ্টনে পাকিস্তানের অংশ বৃদ্ধি
২) ভারত–পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক ক্রিকেট সিরিজ পুনরায় চালু
৩) আন্তর্জাতিক ম্যাচে হ্যান্ডশেক প্রটোকল কঠোরভাবে কার্যকর করা

এর আগে পাকিস্তান সরকার জানিয়েছিল, নিরপেক্ষ ভেন্যু হলেও ভারত ম্যাচ খেলতে দলকে অনুমতি দেওয়া হবে না। তবে এ সিদ্ধান্তের পেছনে স্পষ্ট কারণ জানানো হয়নি। ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, নিরাপত্তাজনিত কারণে ম্যাচ আয়োজনের অনুরোধ আইসিসি প্রত্যাখ্যান করায় বাংলাদেশ বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘটনায় সংহতি প্রকাশ করতেই পাকিস্তান এমন অবস্থান নেয়।

বিষয়টি সমাধানে আইসিসি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করে। এতে জুমে যুক্ত হন আইসিসির সিইও সঞ্জোগ গুপ্ত। লাহোরে উপস্থিত ছিলেন পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি, আইসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজা এবং বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল।

ক্রিকবাজ আরও জানিয়েছে, বাংলাদেশও আইসিসির কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারে। চলমান আলোচনায় সেই সমঝোতায় পৌঁছাতে পাকিস্তান মধ্যস্থতার ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ না হলে আইসিসি বড় অঙ্কের সম্প্রচার রাজস্ব হারাবে—এই আর্থিক চাপকেই কৌশল হিসেবে ব্যবহার করতে চাচ্ছে পিসিবি। বর্তমানে আইসিসির রাজস্ব বণ্টনে পাকিস্তান চতুর্থ সর্বোচ্চ আয়কারী বোর্ড, যারা মোট আয়ের ৫.৭৫ শতাংশ পায়—বার্ষিক প্রায় ৩ কোটি ৪৫ লাখ মার্কিন ডলার।

তবে ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ পুনরায় চালুর দাবি বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে, কারণ এটি দুই দেশের সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল, যেখানে আইসিসির সরাসরি ক্ষমতা নেই।

হ্যান্ডশেক প্রটোকল সংক্রান্ত দাবি উঠে এসেছে ২০২৫ এশিয়া কাপের প্রেক্ষাপটে। পেহেলগাম হামলার পর পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের সঙ্গে করমর্দন না করায় ভারতীয় দলের আচরণ নিয়েই নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

সূত্র : ইন্ডিয়া টুডে / এনডিটিভি

Leave A Reply


Math Captcha
− 1 = 1