আন্তর্জাতিক ডেস্ক: গত দুই শতাব্দীতে প্রকাশিত অসংখ্য কথাসাহিত্যিক বইয়ের মধ্যে যেসব গ্রন্থ পাঠের ধরন, সাহিত্যধারা, লেখালেখির পদ্ধতি এবং সমাজ-সংস্কৃতিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছে, সেগুলোর মধ্য থেকে ২০০টি বইয়ের তালিকা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের অলাভজনক সাহিত্য প্রতিষ্ঠান দ্য সেন্টার ফর ফিকশন।
প্রতিষ্ঠানটির ২০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে তৈরি করা এ তালিকার নাম দেওয়া হয়েছে ‘২০০ বুকস দ্যাট শেপড ২০০ ইয়ার্স অব লিটারেচার’। ১৮২১ সালে নিউইয়র্কের ‘মারকেন্টাইল লাইব্রেরি’ হিসেবে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি পরবর্তীতে ‘দ্য সেন্টার ফর ফিকশন’ নামে পরিচিত হয়। তালিকাটি মূলত গত দুই শতাব্দীতে যুক্তরাষ্ট্রের পাঠক, লেখক ও সংস্কৃতিতে প্রভাব ফেলেছে—এমন কথাসাহিত্য বিবেচনা করে তৈরি করা হয়েছে।
তালিকা তৈরিতে দ্য সেন্টার ফর ফিকশনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক খ্যাতিমান লেখক অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন স্টিফেন কিং, নীল গেইম্যান, সালমান রুশদি, জেন স্মাইলি, মাইকেল কানিংহামসহ আরও অনেকে।
শুরুর তালিকায় অস্টেন, পো ও দস্তয়েভস্কি
১৮২১ থেকে ১৮৯৯ সাল পর্যন্ত সময়ের নির্বাচিত বইগুলোর মধ্যে রয়েছে জেন অস্টেনের ‘প্রাইড অ্যান্ড প্রেজুডিস’, এডগার অ্যালান পো-এর ‘দ্য কালেক্টেড ওয়ার্কস অব এডগার অ্যালান পো’, আলেকজান্দ্র দ্যুমার ‘দ্য কাউন্ট অব মন্টে ক্রিস্টো’, শার্লট ব্রন্টির ‘জেন আইর’, এমিলি ব্রন্টির ‘উদারিং হাইটস’, হারম্যান মেলভিলের ‘মবি ডিক’, চার্লস ডিকেন্সের ‘গ্রেট এক্সপেকটেশনস’, ভিক্টর হুগোর ‘লে মিজারেবল’, ফিওদর দস্তয়েভস্কির ‘ক্রাইম অ্যান্ড পানিশমেন্ট’, লিও তলস্তয়ের ‘আনা কারেনিনা’ এবং ব্রাম স্টোকারের ‘ড্রাকুলা’।
বিশ শতকের শুরুতে বদলে যায় সাহিত্যের ভাষা
১৯০০ থেকে ১৯২৯ সালের তালিকায় স্থান পেয়েছে মার্সেল প্রুস্তের ‘ইন সার্চ অব লস্ট টাইম’, জেমস জয়েসের ‘ইউলিসিস’, হারমান হেসের ‘সিদ্ধার্থ’, ভার্জিনিয়া উলফের ‘মিসেস ড্যালোওয়ে’, এফ. স্কট ফিটজেরাল্ডের ‘দ্য গ্রেট গ্যাটসবি’, ফ্রানৎস কাফকার ‘দ্য ট্রায়াল’, আর্নেস্ট হেমিংওয়ের ‘দ্য সান অলসো রাইজেস’ এবং নেলা লারসেনের ‘পাসিং’।
পরবর্তী দুই দশকে তালিকায় যুক্ত হয়েছে অ্যালডাস হাক্সলির ‘ব্রেভ নিউ ওয়ার্ল্ড’, আগাথা ক্রিস্টির ‘মার্ডার অন দ্য ওরিয়েন্ট এক্সপ্রেস’, জোরা নিল হার্স্টনের ‘দেয়ার আইজ ওয়্যার ওয়াচিং গড’, ড্যাফনি দ্যু মরিয়ের ‘রেবেকা’, জন স্টাইনবেকের ‘দ্য গ্রেপস অব র্যাথ’, আলবেয়ার কামুর ‘দ্য স্ট্রেঞ্জার’ এবং জর্জ অরওয়েলের ‘নাইনটিন এইটি-ফোর’।
‘দ্য ক্যাচার ইন দ্য রাই’ থেকে ‘ওয়ান হান্ড্রেড ইয়ার্স অব সলিটিউড’
১৯৫০ ও ১৯৬০-এর দশকের নির্বাচিত বইগুলোর মধ্যে রয়েছে জে. ডি. স্যালিঞ্জারের ‘দ্য ক্যাচার ইন দ্য রাই’, রালফ এলিসনের ‘ইনভিজিবল ম্যান’, জে. আর. আর. টলকিনের ‘দ্য লর্ড অব দ্য রিংস’, ভ্লাদিমির নবোকভের ‘লোলিতা’, চিনুয়া আচেবের ‘থিংস ফল অ্যাপার্ট’, হার্পার লির ‘টু কিল আ মকিংবার্ড’, জোসেফ হেলারের ‘ক্যাচ-২২’, স্তানিসলাভ লেমের ‘সোলারিস’, গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেসের ‘ওয়ান হান্ড্রেড ইয়ার্স অব সলিটিউড’, মিখাইল বুলগাকভের ‘দ্য মাস্টার অ্যান্ড দ্য মার্গারিটা’ এবং কার্ট ভনেগাটের ‘স্লটারহাউস-ফাইভ’।
টনি মরিসন ও সমকালীন সাহিত্যের শক্তিশালী উপস্থিতি
১৯৭০ থেকে ১৯৮০-এর দশকের তালিকায় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য টনি মরিসনের ‘দ্য ব্লুয়েস্ট আই’, ‘সুলা’, ‘সং অব সলোমন’ ও ‘বিলাভড’। পাশাপাশি রয়েছে স্টিফেন কিংয়ের ‘দ্য শাইনিং’, অক্টাভিয়া ই. বাটলারের ‘কাইন্ড্রেড’, উমবের্তো একোর ‘দ্য নেম অব দ্য রোজ’, সালমান রুশদির ‘মিডনাইটস চিলড্রেন’, অ্যালিস ওয়াকারের ‘দ্য কালার পার্পল’, মার্গারেট অ্যাটউডের ‘দ্য হ্যান্ডমেইডস টেল’ এবং মিলান কুন্দেরার ‘দ্য আনবেয়ারেবল লাইটনেস অব বিইং’।
নব্বইয়ের দশকে যুক্ত হয় নতুন বৈশ্বিক কণ্ঠ
১৯৯০-এর দশকের তালিকায় স্থান পেয়েছে ব্রেট ইস্টন এলিসের ‘আমেরিকান সাইকো’, মাইকেল ওন্ডাটজের ‘দ্য ইংলিশ পেশেন্ট’, ডোনা টার্টের ‘দ্য সিক্রেট হিস্ট্রি’, হারুকি মুরাকামির ‘দ্য উইন্ড-আপ বার্ড ক্রনিকল’, ডেভিড ফস্টার ওয়ালেসের ‘ইনফিনিট জেস্ট’, ওরহান পামুকের ‘মাই নেম ইজ রেড’ এবং ঝুম্পা লাহিড়ীর ‘ইন্টারপ্রেটার অব ম্যালাডিজ’।
২০০০ সালের পরের বইও তালিকায়
২০০০ থেকে ২০০৯ সালের তালিকায় রয়েছে ইয়ান ম্যাকইউয়ানের ‘অ্যাটোনমেন্ট’, জোনাথন ফ্রাঞ্জেনের ‘দ্য কারেকশনস’, ডেভিড মিচেলের ‘ক্লাউড অ্যাটলাস’, কাজুও ইশিগুরোর ‘নেভার লেট মি গো’, জুনোট দিয়াজের ‘দ্য ব্রিফ ওয়ান্ড্রাস লাইফ অব অস্কার ওয়াও’ এবং লিডিয়া ডেভিসের ‘দ্য কালেক্টেড স্টোরিজ অব লিডিয়া ডেভিস’।
২০১০ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে প্রকাশিত নির্বাচিত বইয়ের মধ্যে রয়েছে এলেনা ফেরান্তের ‘মাই ব্রিলিয়ান্ট ফ্রেন্ড’, ম্যাডেলিন মিলারের ‘দ্য সং অব অ্যাকিলিস’, জিলিয়ান ফ্লিনের ‘গন গার্ল’, এন. কে. জেমিসিনের ‘দ্য ব্রোকেন আর্থ ট্রিলজি’, কলসন হোয়াইটহেডের ‘দ্য আন্ডারগ্রাউন্ড রেলরোড’, মোহসিন হামিদের ‘এক্সিট ওয়েস্ট’, স্যালি রুনির ‘নরমাল পিপল’, কামিলা শামসির ‘হোম ফায়ার’, বার্নাডিন এভারিস্তোর ‘গার্ল, ওম্যান, আদার’ এবং ওশান ভুয়ংয়ের ‘অন আর্থ উই আর ব্রিফলি গর্জিয়াস’।
দ্য সেন্টার ফর ফিকশনের মতে, নির্বাচিত বইগুলো কেবল জনপ্রিয়তার কারণে তালিকাভুক্ত হয়নি; বরং কোন বই কীভাবে নতুন ধরনের কথাসাহিত্য তৈরি করেছে, পাঠ ও লেখার ধরন বদলেছে, প্রকাশনার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে কিংবা সাহিত্যের বাইরেও সামাজিক পরিবর্তনে প্রভাব ফেলেছে—এসব বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
তবে তালিকাটি নিয়ে বিতর্কের সুযোগও রয়েছে। সাহিত্যবিষয়ক পর্যালোচনায় উল্লেখ করা হয়েছে, তালিকাটি ইংরেজিতে লেখা বইয়ের দিকে তুলনামূলকভাবে বেশি ঝুঁকে আছে এবং বিশ্বের আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ লেখক ও সাহিত্যধারা এতে অনুপস্থিত।
সূত্র: দ্য সেন্টার ফর ফিকশন

