Friday, November 6

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে টানা সরকারি ছুটি শুরু হওয়ায় রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছে ঘরমুখো মানুষ। মঙ্গলবার রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন, সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল এবং সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল এলাকায় বাড়ি ফেরা মানুষের ব্যস্ততা দেখা গেছে। কোথাও অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ ও ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়ে ভোগান্তি, কোথাও বাসে বাড়তি ভাড়া ও যাত্রী টানাটানির অভিযোগ উঠেছে।

কমলাপুরে যাত্রীর চাপ, শিডিউল বিপর্যয়

কমলাপুর রেলস্টেশনে সকাল থেকেই ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। পরিবার-পরিজন নিয়ে হাজারো মানুষ স্টেশনে ভিড় করেন। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলগামী ট্রেনগুলোতে যাত্রীদের চাপ বেশি ছিল।

ঈদ উপলক্ষে প্রতিদিন ৩১ হাজারের বেশি আসন বরাদ্দ থাকলেও অনেক ট্রেনে তিল ধারণের জায়গা ছিল না। অতিরিক্ত বগি সংযোজন করা হলেও অনেক যাত্রী টিকিট থাকার পরও আসনে বসতে পারেননি। বাধ্য হয়ে অনেককে ট্রেনের গেটে দাঁড়িয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে যাত্রা করতে দেখা গেছে।

স্টেশন সূত্রে জানা যায়, বেশ কয়েকটি আন্তঃনগর ট্রেন নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে ছেড়েছে। এর মধ্যে মহানগর প্রভাতী দুই ঘণ্টা ১৪ মিনিট, বিজয় এক্সপ্রেস এক ঘণ্টা ৫৫ মিনিট, রূপসা এক্সপ্রেস এক ঘণ্টা ৫৪ মিনিট এবং জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস এক ঘণ্টা ২৪ মিনিট বিলম্বে ছেড়ে যায়। এছাড়া বনলতা, প্রবাল, সুন্দরবন ও রংপুর এক্সপ্রেসসহ কয়েকটি ট্রেন ২০ মিনিট থেকে দেড় ঘণ্টা পর্যন্ত দেরিতে ছেড়েছে।

তবে কক্সবাজার ও সুবর্ণা এক্সপ্রেস নির্ধারিত সময়েই ঢাকা ছাড়ে। স্টেশন মাস্টার আনোয়ার হোসেন জানান, এবার শতভাগ টিকিট অনলাইনে দেওয়া হয়েছে এবং পরিচ্ছন্নতা ও মাঝপথে বিরতির কারণে কিছু ট্রেন ছাড়তে দেরি হচ্ছে।

অগ্রিম টিকিটে সহজ প্রবেশ

অগ্রিম টিকিটধারীরা চেকিং পার হয়ে সহজেই স্টেশনের ভেতরে প্রবেশ করতে পেরেছেন। টিটিইদের পাশাপাশি আনসার সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবীরা যাত্রীদের শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে প্রবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করছেন।

এদিকে গতকাল থেকে দাঁড়িয়ে যাওয়ার টিকিটও চালু হয়েছে। আলী হোসেন নামে এক যাত্রী বলেন, অনলাইনে টিকিট না পেয়ে তিনি দাঁড়িয়ে যাওয়ার টিকিট নিয়েই বাড়ি যাচ্ছেন।

বাসে বাড়তি ভাড়ার অভিযোগ

রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনাল–এও সকাল থেকে যাত্রীর চাপ দেখা গেছে। অনেক যাত্রী অভিযোগ করেছেন, বাসে বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। সাতক্ষীরাগামী যাত্রী পলাশ মাহমুদ বলেন, সাধারণ সময়ে যেখানে ভাড়া ১২০০ টাকা, সেখানে ঈদ উপলক্ষে ১৬০০ টাকা নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে দুপুরের দিকে কুমিল্লা, লাকসাম ও নোয়াখালীগামী বাস সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। যাত্রীরা নামার সঙ্গে সঙ্গেই বাসের হেল্পাররা তাদের নিজেদের বাসে তুলতে টানাটানি করছেন বলে অভিযোগ করেন যাত্রীরা।

সদরঘাটেও বাড়ছে যাত্রী

সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল–এ সকালবেলা যাত্রী কম থাকলেও বিকেলের দিকে চাপ বাড়তে শুরু করে। পদ্মা সেতু চালুর পর দক্ষিণাঞ্চলগামী লঞ্চের যাত্রী কিছুটা কমলেও ঈদের সময় অনেক যাত্রী আবার নৌপথ বেছে নিচ্ছেন।

চাঁদপুরগামী লঞ্চে কিছুটা চাপ থাকলেও বরিশাল, ঝালকাঠি, ভোলা ও বরগুনা রুটের লঞ্চগুলোতেও যাত্রী বাড়তে দেখা গেছে। লঞ্চ সংশ্লিষ্টরা জানান, অফিস বন্ধ থাকায় সকাল থেকেই যাত্রীর চাপ বাড়তে শুরু করেছে এবং সন্ধ্যার পর তা আরও বাড়তে পারে।

ঈদযাত্রা নিরাপদ রাখতে রেল, নৌ ও সড়ক—তিন ক্ষেত্রেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। কমলাপুর রেলস্টেশনে ২৭টি পয়েন্টে অ্যাকসেস কন্ট্রোলসহ অতিরিক্ত নিরাপত্তা নেওয়া হয়েছে। টিকিট কালোবাজারির অভিযোগে কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

কর্তৃপক্ষের ধারণা, আজ বুধবার থেকে গার্মেন্টস ও শিল্প-কারখানা ছুটি শুরু হলে ঈদযাত্রার চাপ আরও বাড়তে পারে।

Leave A Reply


Math Captcha
+ 29 = 39