Friday, November 6

শুক্র ও শনিবারের ছুটি শেষে সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবস রোববার অমর একুশে বইমেলা আবারও যেন প্রাণচাঞ্চল্য হারিয়েছে। দিনজুড়ে মেলায় ক্রেতা ও দর্শনার্থীর উপস্থিতি ছিল খুবই কম। ফলে বিভিন্ন স্টলে বিক্রয় প্রতিনিধিদের অলস সময় কাটাতে দেখা গেছে। সন্ধ্যার আগে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে নেমে আসে অস্বাভাবিক নীরবতা।

প্রকাশক ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রমজান মাসে আগেও বইমেলা অনুষ্ঠিত হলেও এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন। মুক্তধারা প্রকাশনীর ব্যবস্থাপক মো. কামরুজ্জামান বলেন, ইফতারের সময় ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে মেলাপ্রাঙ্গণ প্রায় ক্রেতা ও পাঠকশূন্য হয়ে পড়ে। ইফতারের আগে কিছুটা প্রাণচাঞ্চল্য থাকলেও পরে সেটিও আর থাকে না।

রোববার বিকেল ৫টার দিকে মেলায় গিয়ে দেখা যায়, দর্শনার্থীর সংখ্যা ছিল খুবই কম। বেশিরভাগ স্টলেই তখন ইফতারের প্রস্তুতি চলছিল। নিরাপত্তাকর্মী, বিক্রয় প্রতিনিধি, প্রকাশক ও দর্শনার্থীদের মধ্যে ইফতারকেন্দ্রিক ব্যস্ততাই ছিল চোখে পড়ার মতো।

মেঘদূত প্রকাশনের বিক্রয় প্রতিনিধি মারুফ হাসান লিয়ন জানান, ইফতারের সময় যদি কোনো পাঠক বা ক্রেতা স্টলে আসেন, তাকে অতিথি হিসেবে গ্রহণ করা হয়। অনেক সময় লেখক কিংবা পাশের স্টলের প্রকাশকরাও একসঙ্গে ইফতার করেন। এতে মেলাপ্রাঙ্গণ নীরব থাকলেও এক ধরনের আন্তরিক পরিবেশ তৈরি হয়।

মাতৃভাষা প্রকাশের বিক্রয় প্রতিনিধি আফরিন বলেন, তাদের স্টলে পালা করে দায়িত্ব পালন করা হয়। দুজন স্টলে থাকেন, অন্যরা ইফতার ও নামাজ শেষে ফিরে আসেন। প্রায় সব স্টলেই একই ধরনের ব্যবস্থা দেখা গেছে।

সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার দিকে তথ্যকেন্দ্র থেকে ইফতার ও নামাজের বিরতির ঘোষণা দেওয়া হয়। এরপর দেখা যায়, অনেকে ইফতার শেষে আবার মেলায় ফিরছেন। তবে সামগ্রিকভাবে দর্শনার্থীর উপস্থিতি সীমিতই ছিল।

সেবা প্রকাশনীর ব্যবস্থাপক আবদুস সালাম জানান, রমজানের কারণে দর্শনার্থীর ভিড় মূলত দুপুর ৩টা থেকে বিকেল ৫টার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। ইফতার ও নামাজের সময় প্রায় এক ঘণ্টা মেলার কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। এরপর স্টলের হিসাব-নিকাশ ও অন্যান্য কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন সংশ্লিষ্টরা। তারাবিহর সময় হলে দর্শনার্থীর সংখ্যা আরও কমে যায়।

তবে কম ভিড়ের কারণে বই দেখার সুযোগ বাড়ছে বলে জানিয়েছেন দর্শনার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সায়েম জামান বলেন, রোজার বিকেলে ভিড় কম থাকায় স্বাচ্ছন্দ্যে বই দেখা যায়। ইফতারের আগে মেলাপ্রাঙ্গণে এক ধরনের শান্ত পরিবেশ বিরাজ করে।

রোববার মেলার তথ্যকেন্দ্রে ৪২টি নতুন বই জমা পড়েছে। উল্লেখযোগ্য বইয়ের মধ্যে রয়েছে মোহিত কামালের ‘মনোজগত ও সাহিত্য’, ‘বনি ইসরায়েল: উত্থান-পতন ও বিশ্ব রাজনীতি’ এবং সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের ‘অন্ধকার ও আলো দেখার গল্প’।

এদিন বিকেল ৩টায় মূলমঞ্চে ‘স্মরণ: হামিদুজ্জামান খান’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নাসিমুল খবির। আলোচনায় অংশ নেন আইভি জামান এবং সভাপতিত্ব করেন লালারুখ সেলিম। ‘লেখক বলছি’ অনুষ্ঠানে নিজের বই নিয়ে কথা বলেন এবিএম সোহেল রশিদ। পরে সাংস্কৃতিক আয়োজনে কবিতা আবৃত্তি ও সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়।

মেলার আয়োজকরা জানিয়েছেন, সোমবারের মূলমঞ্চের অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন পারভেজ হোসেন এবং সভাপতিত্ব করবেন সফিকুন্নবী সামাদী।

Leave A Reply


Math Captcha
6 + 1 =