Friday, November 6

রাজধানীর উত্তরা-মতিঝিল মেট্রো রেল নির্মাণে যেখানে প্রতি কিলোমিটারে ব্যয় হয়েছিল ১ হাজার ৫৭৪ কোটি টাকা, সেখানে নতুন দুটি পথে সম্ভাব্য ব্যয় দাঁড়াচ্ছে কিলোমিটারে ৩ হাজার ৬১৮ কোটি টাকা। ফলে নতুন দুই লাইনের মোট ব্যয় বেড়ে দাঁড়াতে পারে ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

বর্তমানে চালু থাকা ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) পরিচালিত উত্তরা-মতিঝিল রুটের সম্প্রসারিত অংশ কমলাপুর পর্যন্ত যাচ্ছে। পুরো পথের দৈর্ঘ্য ২১ দশমিক ২৬ কিলোমিটার এবং ব্যয় ৩৩ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা।

নির্মাণের অপেক্ষায় থাকা দুটি নতুন রুট হলো এমআরটি লাইন-১ (কমলাপুর থেকে বিমানবন্দর এবং নর্দ্দা থেকে পূর্বাচল, দৈর্ঘ্য ৩১ কিলোমিটারের বেশি) এবং এমআরটি লাইন-৫ (উত্তর) (হেমায়েতপুর থেকে মিরপুর ও গুলশান হয়ে ভাটারা, প্রায় ২০ কিলোমিটার)। দুটি লাইনেরই অংশবিশেষ হবে উড়াল ও পাতালপথে।

ডিএমটিসিএলের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, লাইন-১ প্রকল্পের প্রাথমিক অনুমোদিত ব্যয় ছিল ৫২ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা (২০১৯ সালের ডিসেম্বর)। কিন্তু ঠিকাদারদের প্রস্তাবিত দর অনুযায়ী ব্যয় বেড়ে দাঁড়াতে পারে ৯৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। একইভাবে লাইন-৫ (উত্তর) প্রকল্পের অনুমোদিত ব্যয় ছিল ৪১ হাজার ২৩৮ কোটি টাকা (২০১৯ সালের অক্টোবর), যা দর প্রস্তাব অনুযায়ী বেড়ে হতে পারে ৮৮ হাজার কোটি টাকা।

বিশ্লেষকদের মতে, দরপত্রে প্রতিযোগিতা সীমিত থাকায় ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। বর্তমানে প্রতিযোগিতা হচ্ছে মূলত জাপানি ঠিকাদারদের মধ্যে। প্রকল্প দুটিতে ঋণ দিচ্ছে জাপানের উন্নয়ন সংস্থা জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)। তাদের আরোপিত কিছু প্রকৌশলগত শর্তের কারণে আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

ডিএমটিসিএল কর্মকর্তাদের সন্দেহ, কিছু প্যাকেজে ঠিকাদারদের মধ্যে যোগসাজশ থাকতে পারে। উদাহরণ হিসেবে কচুক্ষেত-ভাটারা অংশে প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল ৩ হাজার ৯৬৮ কোটি টাকা, কিন্তু সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে জাপানের তাইসি ও দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং যৌথভাবে ১৫ হাজার ৫২৭ কোটি টাকার প্রস্তাব দেয়—যা প্রাক্কলনের তুলনায় প্রায় ৩৯১ শতাংশ বেশি।

ডিএমটিসিএল ব্যয় কমাতে ঋণের শর্ত পরিবর্তন ও উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করার প্রস্তাব দিয়েছে। এ বিষয়ে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা কমিশনে চিঠিও পাঠানো হয়েছে। তবে নতুন সরকার এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক সামছুল হক বলেছেন, প্রতিযোগিতা ছাড়া মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করলে অর্থনীতির ওপর বড় চাপ তৈরি হবে। ব্যয় কমাতে হলে দরপত্র প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা জরুরি।

উল্লেখ্য, উত্তরা-মতিঝিল রুটে চলাচলকারী মেট্রো রেল থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে টিকিট বিক্রি করে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা আয় হয়েছে (অনিরীক্ষিত)। তবে ২০৩০-৩১ সাল পর্যন্ত বছরে ৪৬৫ থেকে ৭৪০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে হবে।

এদিকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষণা দেন, ক্ষমতায় গেলে ঢাকায় মেট্রোরেলের পাশাপাশি মনোরেল চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হবে। এখন প্রশ্ন, নতুন সরকার উচ্চব্যয়ের এই দুই মেট্রো প্রকল্পে কী সিদ্ধান্ত নেয়।

Leave A Reply


Math Captcha
46 − = 36