Friday, November 6

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যয়ের জন্য আর্থিক সহায়তা চেয়ে দেওয়া ভিডিওবার্তার পর মাত্র ৭ ঘণ্টায় ১২ লাখ টাকার বেশি অনুদান পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারা।

মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) ভোরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ তথ্য জানান।

পোস্টে ডা. তাসনিম জারা লেখেন, “মাত্র ৭ ঘণ্টায় আপনারা ১২ লাখ টাকারও বেশি পাঠিয়েছেন। এতটা অভূতপূর্বভাবে আপনারা পাশে দাঁড়াবেন, তা সত্যিই আমাদের কল্পনার বাইরে ছিল। আপনাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।”

তিনি জানান, তার নির্বাচনী ব্যয়ের মোট লক্ষ্যমাত্রা ৪৬ লাখ ৯৩ হাজার ৫৮০ টাকা। এর মধ্যে ৩৪ লাখ টাকা সংগ্রহ সম্পন্ন হলেই ফান্ডরেইজিং কার্যক্রম বন্ধ করা হবে।

ডা. জারা আরও উল্লেখ করেন, “রাত ২টার পর নির্ধারিত লিমিট অতিক্রম করার কারণে বিকাশে আপাতত টাকা পাঠানো যাচ্ছে না। তবে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ডোনেশন গ্রহণ করা হচ্ছে।”

এর আগে সোমবার (২২ ডিসেম্বর) রাতে ফেসবুকে দেওয়া এক ভিডিওবার্তায় নির্বাচনী খরচের জন্য জনগণের কাছে সহায়তা চান এনসিপির এই নেত্রী। ভিডিওতে তিনি বলেন, “আইন অনুযায়ী একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা বা ভোটারপ্রতি ১০ টাকা খরচ করতে পারেন। কিন্তু বাস্তবে শোনা যায় অনেক প্রার্থী ২০ থেকে ৫০ কোটি টাকা ব্যয় করেন। এরপর নির্বাচন কমিশনের কাছে গিয়ে বলেন মাত্র ২৫ লাখ টাকা খরচ করেছেন। এতে সংসদে যাওয়ার যাত্রা শুরু হয় আইন ভাঙা ও মিথ্যা বলার মাধ্যমে। আমি এই অসততা ও মিথ্যার রাজনীতি করবো না।”

তিনি প্রতিজ্ঞা করে বলেন, আইনে অনুমোদিত সীমার বাইরে এক টাকাও ব্যয় করবেন না। তার মতে, অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে নির্বাচিত হওয়ার পর অনেক রাজনীতিককে চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির পথে যেতে হয়, যার ফলে রাজনীতি সাধারণ মানুষের হাতছাড়া হয়ে যায়।

ডা. তাসনিম জারা জানান, তার নির্বাচনী এলাকায় প্রায় ৪ লাখ ৭০ হাজার ভোটার রয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী এই আসনে তিনি সর্বোচ্চ ৪৬ লাখ ৯৩ হাজার ৫৮০ টাকা ব্যয় করতে পারবেন, এবং সেই অর্থ তিনি জনগণের কাছ থেকেই সংগ্রহ করতে চান।

ভিডিওবার্তায় তিনি তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও বিকাশ নম্বর প্রকাশ করে বলেন, “এগুলো সম্পূর্ণ নতুন অ্যাকাউন্ট। কত টাকা আসছে এবং কোথায় খরচ হচ্ছে—প্রতিটি টাকার হিসাব প্রমাণসহ জনসম্মুখে প্রকাশ করা হবে।”

ডা. জারা বলেন, “আমি যদি একটি আসনেও প্রমাণ করতে পারি যে জনগণের সহায়তায়, জনগণের সঙ্গে থেকেই সৎভাবে নির্বাচন করা সম্ভব, তাহলে ভবিষ্যতে অনেক সৎ ও যোগ্য মানুষ রাজনীতিতে আসার সাহস পাবেন।”

Leave A Reply


Math Captcha
2 + 3 =