Saturday, November 7

নোয়াখালীর বিভিন্ন উপজেলায় মাদক ব্যবসার অভিযোগে ব্যক্তি ও বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর এবং গণপিটুনির ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। এরই মধ্যে সোনাইমুড়ী উপজেলায় গণপিটুনিতে মো. ফয়েজ (৩৭) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।

অভিযোগ রয়েছে, গত বৃহস্পতিবার রাতে সোনাইমুড়ীর উত্তর শাকতলা গ্রাম থেকে ফয়েজকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে ‘মাদক ব্যবসায়ী’ আখ্যা দিয়ে মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে বাড়ির পাশে ফেলে রেখে গেলে পরিবারের সদস্যরা উদ্ধার করে হাসপাতালে নেন। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের করা মামলায় ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে এবং পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

একই সময়ে জেলার বেগমগঞ্জ ও কবিরহাট উপজেলাতেও মাদক ব্যবসার অভিযোগে হামলা, ভাঙচুর ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে। বেগমগঞ্জে এক ব্যক্তির বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়, আর কবিরহাটে তিন ব্যক্তিকে আটক করে গণপিটুনি দেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব ঘটনার পেছনে সেনবাগে স্কুলছাত্র আরাফাত হোসেন হত্যাকাণ্ডের প্রভাব রয়েছে। গত বুধবার মাদক ব্যবসা নিয়ে বিরোধের জেরে হামলায় নিহত হয় দশম শ্রেণির ছাত্র আরাফাত। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং পরে বিভিন্ন স্থানে কথিত মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে জনরোষের বহিঃপ্রকাশ দেখা যায়।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর নোয়াখালী জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবু নাছের মঞ্জু বলেন, মাদক ব্যবসা দমনের নামে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া, হামলা বা হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এসব কর্মকাণ্ড আইনের শাসনের পরিপন্থী এবং সমাজে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে পারে।

নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন জানিয়েছেন, জেলার বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। কেউ যাতে আইন নিজের হাতে তুলে নিতে না পারে, সে বিষয়ে পুলিশ সতর্ক রয়েছে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave A Reply


Math Captcha
87 − = 79