ঢাকা, ৯ জুন: পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর ৪ হাজার ৮০০ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দাবিকে নাকচ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
জার্মানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিজিবির উপ-মহাপরিচালক (মিডিয়া) কর্নেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ মাহমুদ বলেন, পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ভারত থেকে কাউকে বাংলাদেশে পুশইন করা সম্ভব হয়নি।
তিনি বলেন, সীমান্ত দিয়ে পুশইনের কিছু চেষ্টা হলেও বিজিবি তা প্রতিহত করেছে। এ বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত কিছু খবরকে তিনি ‘গুজব’ বলে উল্লেখ করেন।
কর্নেল আবুল হাসনাত বলেন, “সীমান্তে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। কোনোভাবেই আমরা পুশইন করতে দেব না। সীমান্তে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা নজরদারি চলছে। স্থানীয় জনগণও আমাদের সঙ্গে পাহারায় অংশ নিচ্ছেন।”
সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসা ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) নির্বাচনী প্রচারণার সময় অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও বহিষ্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এর অংশ হিসেবে রাজ্যজুড়ে বিশেষ আটককেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গত রোববার কলকাতায় এক বক্তব্যে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (সিএএ) আওতায় না আসা বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের ফেরত পাঠানোর কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তিনি জানান, মে মাসে স্থাপিত বিভিন্ন হোল্ডিং সেন্টার থেকে এ পর্যন্ত ৪ হাজার ৮০০ জনকে ফেরত পাঠানো হয়েছে এবং বর্তমানে আরও ৮৩৬ জন সেখানে অবস্থান করছেন।
তবে বিজিবি বলছে, ভারত থেকে বাংলাদেশে এতসংখ্যক মানুষ ফেরত পাঠানোর কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই।
পুশইন প্রসঙ্গে কর্নেল আবুল হাসনাত বলেন, কোনো দেশে অবৈধভাবে অবস্থানকারী বিদেশি নাগরিকদের ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত যাচাই-বাছাই ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া রয়েছে। সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে সীমান্ত দিয়ে জোরপূর্বক মানুষ ঠেলে দেওয়া আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের পরিপন্থী।
তিনি আরও বলেন, ভারতে অবস্থানরত কোনো বাংলাদেশি নাগরিকের তালিকা বাংলাদেশ সরকারকে দেওয়া হয়ে থাকলে তা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিষয়। এ বিষয়ে বিজিবির কাছে কোনো তথ্য নেই।
সূত্র: ডয়চে ভেলে

