ঢাকা, ৯ জুন: অপচয় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপে রাষ্ট্রীয় অর্থ সাশ্রয় হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় সরকারি ব্যয় কমানো, প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং অপ্রয়োজনীয় খরচ নিয়ন্ত্রণে একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এর মধ্যে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সম্প্রচারস্বত্ব সংগ্রহের বিষয়টি অন্যতম উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। সূত্র জানায়, একটি মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সম্প্রচারস্বত্ব কিনতে গেলে প্রায় ২০০ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারত। পরে সরাসরি ফিফার সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে প্রায় ৭২ কোটি ৭০ লাখ টাকায় সম্প্রচারস্বত্ব সংগ্রহ করা সম্ভব হয়। এর ফলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
এ ছাড়া সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়রসহ কয়েকজন কর্মকর্তার প্রস্তাবিত যুক্তরাষ্ট্র সফরের অনুমোদন দেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে সরকারি দপ্তরগুলোর ব্যয় সংকোচন এবং প্রশাসনিক খরচ কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সূত্র আরও জানায়, সংসদ সদস্যদের জন্য বরাদ্দকৃত থোক বরাদ্দ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন থেকে উন্নয়ন প্রকল্পের চাহিদা সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠাবেন এবং যাচাই-বাছাই শেষে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।
অন্যদিকে, অতীত সরকারগুলোর সময়ে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অতিরিক্ত ব্যয় ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরে বর্তমান সরকার সেসব চর্চা বন্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দুর্নীতি ও অপচয় রোধের পাশাপাশি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং বেসরকারি খাতকে সক্রিয় করাও অর্থনীতির গতি ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এজন্য ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের আস্থা পুনরুদ্ধারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

