ঢাকা, ৮ জুন: সীমান্তে পুশইন, হত্যা, আকাশসীমা লঙ্ঘনসহ বিভিন্ন স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে সোমবার (৮ জুন) নয়াদিল্লিতে চার দিনব্যাপী সীমান্ত সম্মেলনে বসছে বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি ও বিএসএফ।
বর্তমান সরকারের আমলে এটিই প্রথম বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের সীমান্ত সম্মেলন। দুই দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এ বৈঠককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের উত্তর, উত্তর-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে নারী-শিশুসহ বহু মানুষকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার (পুশইন) অভিযোগ এবং আকাশসীমা লঙ্ঘনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সীমান্তে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটেই শুরু হচ্ছে এবারের বৈঠক।
বিজিবি সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ থেকে ৬ জুন পর্যন্ত চার দিনে ঝিনাইদহ, চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর, নওগাঁর সাপাহার, লালমনিরহাটের বারখাতা ও পাটগ্রাম এবং পঞ্চগড় সীমান্তে অন্তত ২৩টি পুশইনের চেষ্টা শনাক্ত করা হয়। এসব ঘটনায় দুই শতাধিক মানুষকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে, যা বিজিবির তৎপরতায় প্রতিহত করা হয়।
এর পর থেকেই সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং বিজিবিকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন Mohammad Ashrafuzzaman Siddiqui। বিজিবির উপ-মহাপরিচালক (মিডিয়া) Abul Hasnat Mohammad Mahmud Azam জানান, এবারের সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধান এজেন্ডা থাকবে সীমান্ত হত্যা ও পুশইন।
তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি বাংলাদেশি হলে তাকে গ্রহণে আপত্তি নেই, তবে তা অবশ্যই আইনগত প্রক্রিয়া ও নাগরিকত্ব যাচাইয়ের মাধ্যমে হতে হবে। যথাযথ প্রক্রিয়া ছাড়া সীমান্ত দিয়ে মানুষ ঠেলে দেওয়া আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার নীতির পরিপন্থী।
এবারের আলোচনায় ভারতীয় ড্রোন ও হেলিকপ্টারের মাধ্যমে বাংলাদেশের আকাশসীমা লঙ্ঘনের বিষয়েও কড়া প্রতিবাদ জানানো হবে। পাশাপাশি আগরতলা থেকে আসা শিল্পবর্জ্য আখাউড়া সীমান্তে প্রবেশ রোধে ভারতীয় অর্থায়নে বর্জ্য শোধনাগার স্থাপনের প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে।
এ ছাড়া মাদক চোরাচালান প্রতিরোধ, অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল স্থাপন, স্থায়ী সীমান্ত পিলার নির্ধারণ, আঞ্চলিক বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর তৎপরতা এবং ভারতীয় গণমাধ্যমে সীমান্তকেন্দ্রিক বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশের বিষয়ও আলোচনায় স্থান পাবে।
চার দিনব্যাপী এ সম্মেলনে বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, ভূমি জরিপ অধিদপ্তর ও যৌথ নদী কমিশনের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন।
অন্যদিকে, ভারতীয় প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন Praveen Kumar। প্রতিনিধিদলে দেশটির স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও রয়েছেন।
আগামী ১১ জুন যৌথ আলোচনার দলিলে স্বাক্ষরের মাধ্যমে সম্মেলন শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

