স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, হামের টিকাদান কর্মসূচি শুরু হওয়ার প্রায় দুই মাস পরও দেশে হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। প্রতিদিনই প্রায় এক হাজার বা তার বেশি শিশু হাম বা হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য
সাম্প্রতিক কয়েক দিনের আক্রান্তের সংখ্যা:
- ৩ জুন: ১,১৩৪ জন
- ২ জুন: ১,২১০ জন
- ১ জুন: ১,১৩৪ জন
- ৩১ মে: ১,৩২৪ জন
- ৩০ মে: ১,০৩৩ জন
- ২৭ মে: ১,০৫৬ জন
- ২৬ মে: ১,০৮৩ জন
- ২৫ মে: ১,২২৭ জন
ঈদের ছুটির সময় আক্রান্তের সংখ্যা কিছুটা কমলেও পরে আবার বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা
রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. বে-নজির আহমেদের মতে, প্রধান সমস্যা হলো টিকাদানের কাভারেজ যথেষ্ট না হওয়া।
তিনি বলেন:
- হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনতে কমপক্ষে ৯৫ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনতে হয়।
- এবার পর্যাপ্ত প্রচার-প্রচারণা ছাড়াই কর্মসূচি শুরু হওয়ায় অনেক শিশু টিকার বাইরে থেকে যেতে পারে।
- টিকার বয়সসীমা পরিবর্তন (৬ মাস থেকে ৫৯ মাস পর্যন্ত) নিয়ে অনেক অভিভাবকের মধ্যে দ্বিধা ছিল।
- রেডিও, টিভি, মাইকিং ও বাড়ি বাড়ি প্রচারণা আরও জোরদার হলে কাভারেজ বাড়তে পারত।
হাসপাতালের পরিস্থিতি
ডিএনসিসি হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ডা. আসিফ হায়দার জানিয়েছেন:
- ঈদের পর ভর্তি রোগীর সংখ্যা কিছুটা কমেছে।
- বর্তমানে প্রতিদিন ১০০ জনের কম রোগী ভর্তি হচ্ছে।
- হাসপাতালের আইসিইউতে ৫৪ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে।
মৃত্যুর সংখ্যা
গত ২৪ ঘণ্টায়:
- হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু: ৭ জন
এ পর্যন্ত:
- নিশ্চিত হামে মৃত্যু: ৯০ জন
- হামের উপসর্গে মৃত্যু: ৫১১ জন
- মোট মৃত্যু: ৬০১ জন
সারসংক্ষেপ
বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকাদান কর্মসূচি চালু হলেও পর্যাপ্ত সংখ্যক শিশুকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। ফলে ভাইরাসের সংক্রমণ শৃঙ্খল পুরোপুরি ভাঙা যায়নি। সংক্রমণ কমাতে টিকাদানের পরিধি বৃদ্ধি, সচেতনতা বাড়ানো এবং দ্রুত শনাক্তকরণ ও চিকিৎসার ওপর জোর দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

