পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কোরবানির পশুর চামড়া কেনাবেচা নিয়ে আবারও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। অতিরিক্ত গরম, সংরক্ষণে দুর্বলতা, পরিবহন জটিলতা এবং বাজার অস্থিরতার কারণে এবারও বিপুল পরিমাণ চামড়া নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এ পরিস্থিতির মধ্যেই বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন-সংশ্লিষ্ট ট্যানারি মালিকরা প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা বাজারে ছাড় করেছেন। তাদের লক্ষ্য, এবার প্রায় ১ কোটি পিস কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করা।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে মাঠে মনিটরিং টিম থাকবে। পাশাপাশি সীমান্ত দিয়ে চামড়া পাচার ঠেকাতে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সরকার নির্ধারিত দামে ঢাকার ভেতরে গরুর কাঁচা চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ৬২ থেকে ৬৭ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৫৭ থেকে ৬২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সে হিসাবে একটি গরুর চামড়ার দাম ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা হওয়ার কথা। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই গরুর চামড়া ৩০০ থেকে ৫০০ টাকার বেশি বিক্রি হচ্ছে না।
অন্যদিকে বকরির চামড়ার বাজার প্রায় নেই বললেই চলে বলে অভিযোগ রয়েছে।
বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশন-এর সাবেক সভাপতি আফতাব খান বলেন, আন্তর্জাতিক পরিবেশগত সনদ না পাওয়া এবং সাভারের ট্যানারিগুলোতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতারা বাংলাদেশি চামড়া থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। বর্তমানে মূলত চীন-এ সীমিত পরিসরে রপ্তানি হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, ট্যানারি মালিকদের কাছ থেকে এখনো পর্যাপ্ত অর্থ না পাওয়ায় মৌসুমি ব্যবসায়ীরা চামড়া কেনা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।
মো. সাখাওয়াত উল্লাহ, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন, বলেন ব্যাংক সহায়তা না পাওয়ায় ট্যানারি মালিকরা নিজেদের মূলধন থেকেই অর্থ ছাড় করছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা থাকলেও ব্যাংকগুলো প্রয়োজনীয় ঋণ দিচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, সময়মতো চামড়ায় লবণ না দেওয়া, অতিরিক্ত গরম ও বৃষ্টির কারণে সংরক্ষণ জটিল হয়ে পড়তে পারে। এতে চামড়ার মান নষ্ট হয়ে দাম আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বিভাগভিত্তিক সমন্বয়ক টিম গঠন করেছে। জেলা প্রশাসক ও ইউএনওদের চামড়া সংগ্রহ ও পরিবহন নির্বিঘ্ন রাখতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে লবণ ছাড়া চামড়া পরিবহন নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং সীমান্তে নজরদারি জোরদার করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

