Saturday, November 7

ব্রাহ্মণবাড়িয়া: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে চিপস কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ৯ বছর বয়সী এক মাদরাসা ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী এক যুবকের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী শিশুটিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

গতকাল শনিবার (২৩ মে) দুপুরে সরাইল উপজেলার তেলিকান্দা উত্তর পাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত সহিদ মিয়া একই এলাকার বাসিন্দা এবং ঘটনার পর থেকেই সে পলাতক রয়েছে।

নির্যাতনের শিকার শিশুটি স্থানীয় একটি মাদরাসার মক্তব বিভাগের ছাত্রী এবং তার বাবা একজন সৌদি প্রবাসী।

চিপসের প্রলোভন ও নির্মম নির্যাতন

ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুরে বাড়ির পাশে খেলাধুলা করছিল ওই শিশুটি। এ সময় প্রতিবেশী সহিদ মিয়া তাকে চিপস কিনে দেওয়ার কথা বলে ফুসলিয়ে একটি দূরবর্তী নির্জন স্থানে নিয়ে যায় এবং সেখানে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।

ধর্ষণের পর বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য শিশুটিকে প্রাণনাশের হুমকি দেয় অভিযুক্ত সহিদ। অপরাধ আড়াল করতে সে নিজেই শিশুটিকে স্থানীয় একটি নদীতে নিয়ে গোসল করায় এবং পরবর্তীতে বাড়ির সামনে এনে রেখে চলে যায়। বাড়ি ফেরার পর শিশুটি প্রচণ্ড অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যদের কাছে ঘটনার বিবরণ দেয়। পরে রাতেই তাকে দ্রুত ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

হাসপাতাল ও পুলিশের বক্তব্য

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক রতন কুমার ঢালী জানান, ভুক্তভোগী শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তার শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার (মেডিকেল টেস্ট) কার্যক্রম চলছে। ফরেনসিক রিপোর্ট পাওয়া গেলে ধর্ষণের প্রকৃত তীব্রতা ও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।

এদিকে জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত তৎপরতা শুরু করেছে। সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনজুর কাদের ভূঁইয়া জানান:

“৯৯৯-এর মাধ্যমে ধর্ষণের বিষয়টি জানার পর থেকেই অভিযুক্ত সহিদ মিয়াকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম অভিযানে নেমেছে। এই ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। তবে বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় লিখিত অভিযোগের অপেক্ষা না করেই পুলিশ আসামিকে আইনের আওতায় আনতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে।”

Leave A Reply


Math Captcha
37 + = 38