Saturday, November 7

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পরিচয়ের পর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে রাজধানীর এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে একাধিকবার ধর্ষণ, গোপনে অন্তরঙ্গ ভিডিও ধারণ এবং সেই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রামের এক যুবকের বিরুদ্ধে। পরে বিয়ের আশ্বাসে তরুণীকে চট্টগ্রামে ডেকে এনে তার কাছ থেকে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত। তবে শেষ পর্যন্ত পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন তিনি।

ভুক্তভোগী পরিবার ও তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পুরো ঘটনাটি ছিল পরিকল্পিত প্রতারণা। এ ঘটনায় গত মঙ্গলবার চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালী থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই দিন মামলার একমাত্র আসামি ইমতিয়াজ আলমকে (২৬) গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

জানা গেছে, ২২ বছর বয়সী ভুক্তভোগী তরুণী রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। ফেসবুকে তার পরিচয় হয় চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বাসিন্দা ইমতিয়াজ আলমের সঙ্গে। ইমতিয়াজ চট্টগ্রামে একজন ক্রিকেটারের গাড়িচালক হিসেবে কাজ করেন।

প্রথমে বন্ধুত্ব, পরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে তরুণীকে বিয়ের আশ্বাস দেন তিনি। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ জানুয়ারি ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানার জসিমউদ্দিন এলাকায় একটি আবাসিক হোটেলে দেখা করার কথা বলে তরুণীকে ডেকে নেন ইমতিয়াজ। সেখানে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এরপর ৩১ মার্চ ঢাকার রাজলক্ষ্মী এলাকার আরেকটি হোটেলে দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টার মধ্যে আবারও তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। সর্বশেষ ১৭ এপ্রিল একই এলাকার হোটেল সেভেন ভিউয়ের ৫০৭ নম্বর কক্ষে বেলা ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টার মধ্যে পুনরায় ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছে।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে তাদের ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও গোপনে ধারণ করে রাখেন ইমতিয়াজ। পরে সেসব ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তরুণীকে নিয়মিত ব্ল্যাকমেইল করতে থাকেন। এমনকি ভিডিও আত্মীয়স্বজনদের কাছেও পাঠিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।

একপর্যায়ে মানসিক চাপে পড়ে গত ১৪ মে তরুণী ঢাকার বাসা থেকে তার বড় বোনের আলমারিতে থাকা ৭ লাখ টাকা নিয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হন। তার ধারণা ছিল, টাকা দিলে এবং বিয়ে হয়ে গেলে হয়তো এই নির্যাতন ও ব্ল্যাকমেইল থেকে মুক্তি পাবেন।

কিন্তু চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে পৌঁছানোর পর ইমতিয়াজ তাকে কোতোয়ালী থানার স্টেশনসংলগ্ন এলাকায় নিয়ে যান। সেখানে কৌশলে তার কাছ থেকে ৭ লাখ টাকা, প্রায় ২ লাখ টাকা মূল্যের ৬ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন এবং প্রায় ৪৫ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের একটি মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

Leave A Reply


Math Captcha
8 + 2 =