Sunday, November 8

কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় বজ্রপাতে কৃষক হজরত আলীর (৩৫) মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে বাবার মরদেহের পাশে বসে কান্নায় ভেঙে পড়ে তার দুই শিশু সন্তান। ছোট বোনকে বুকে জড়িয়ে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছিল ১০ বছরের ছেলে বাপন। তবে কিছুক্ষণ পরপরই বাবাকে হারানোর শোকে আবারও ডুকরে কেঁদে উঠছিল সে।

সোমবার সন্ধ্যায় খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে এমন হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখা যায়। নিহত হজরত আলী উপজেলার জয়ন্তী হাজরা গ্রামের বাসিন্দা। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে গ্রামের কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

জয়ন্তী হাজরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সকিব খান জানান, হজরত আলী খুবই সহজ-সরল মানুষ ছিলেন। তিনি স্ত্রী ও দুই শিশু সন্তান রেখে গেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার জয়ন্তী হাজরা গ্রামে বজ্রপাতে হজরত আলীর মৃত্যু হয়। একই সময়ে পৃথক স্থানে এক স্কুলছাত্রীসহ আরও তিনজন আহত হয়েছেন।

আহতরা হলেন— শিমুলিয়া ইউনিয়নের কালীশংকপুর গ্রামের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী অন্তরা (১০), বিলজানি গ্রামের ডলি খাতুন (২০) এবং খোকসা-পাংশা সীমান্তবর্তী হলুদবাড়িয়া গ্রামের সোমা পারভিন (২৫)। তাদের খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

স্বজনরা জানান, বিকেলে আকাশে মেঘ জমলে মাঠে কেটে রাখা ধানের আঁটি গোছাতে যান হজরত আলী। এ সময় বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত শুরু হলে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাঠে পড়ে যান। পরে পরিবারের সদস্যরা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শারমিন আক্তার জানান, হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল।

নিহতের ভাতিজা বাপ্পী বলেন, “ধান ভিজে যাওয়ার ভয়েই চাচা মাঠে গিয়েছিলেন। বজ্রপাতের পর তাকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক জানান, তিনি আর বেঁচে নেই।”

Leave A Reply


Math Captcha
41 − = 33