Sunday, November 8

টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের পশ্চিম নুঠুরচর গ্রামের এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে সরকারি রাস্তার ইট তুলে নিজ বাড়িতে পাকা বাথরুম নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।

অভিযুক্ত আয়েশা বেগম মির্জাপুর ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য।

সরেজমিনে দেখা যায়, গোপালপুর উপজেলা পরিষদ-এর আওতায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কাবিটা কর্মসূচির মাধ্যমে পশ্চিম নুঠুরচর গ্রামের জসিম মিয়ার বাড়ি থেকে আজমত হোসেনের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় আড়াই লাখ টাকা ব্যয়ে ৬০০ মিটার গ্রামীণ সড়কে মাটি ভরাট ও ইটের সলিং করা হয়।

গ্রামের প্রবীণ আব্দুল হালিম অভিযোগ করেন, পাশের প্যারাজানি বিলে হাজারো একর জমিতে বোরো ও রোপা ধানের আবাদ হয়। কৃষকদের যাতায়াত ও ফসল পরিবহনের একমাত্র ভরসা ছিল এই সড়কটি। এলাকাবাসীর দাবিতে উপজেলা প্রশাসন রাস্তা সংস্কার করলেও পরে প্রকল্পের সভাপতি থাকা ইউপি সদস্য আয়েশা বেগম এবং তার স্বামী তোফাজ্জল হোসেন দিনের বেলায় রাস্তার ইট খুলে ভ্যানে করে বাড়িতে নিয়ে যান।

স্থানীয়দের দাবি, ইট তোলার কারণ জানতে চাইলে বলা হয়েছিল রাস্তা পাকা করা হবে এবং ইট খোয়া বানানো হবে। পরে সেই ইট দিয়েই বাড়িতে পাকা বাথরুম নির্মাণ করা হয়।

গ্রামের আরেক বাসিন্দা আব্দুল জলিল বলেন, সরকারি টাকায় নির্মিত রাস্তার ইট খুলে নিয়ে গিয়ে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। প্রতিবাদ করতে গেলে ভয়ভীতি দেখানো হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

রোববার ইউপি সদস্যের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার কাজের সাইনবোর্ড বাথরুমের পাশে পড়ে রয়েছে।

এ বিষয়ে তোফাজ্জল হোসেন দাবি করেন, চারটি রাস্তার কাজ শেষে সাড়ে তিন হাজার ইট উদ্বৃত্ত ছিল। সেই ইট দিয়েই বাথরুম নির্মাণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, “উপজেলা প্রশাসন তো কখনো ইট ফেরত চায়নি।”

অন্যদিকে আয়েশা বেগম বলেন, রাতের আঁধারে কিছু দুষ্ট লোক রাস্তার ইট চুরি করে নিয়ে গেছে। তাই রাস্তার ইট দিয়ে বাথরুম নির্মাণের অভিযোগ সঠিক নয়। তিনি আরও জানান, রাস্তা পুনঃসংস্কারের জন্য নতুন প্রকল্প জমা দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে গোপালপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে। অফিস সূত্র জানায়, অভিযুক্ত ইউপি সদস্যকে তিন দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে নিজ খরচে ইট কিনে রাস্তা চলাচলের উপযোগী না করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave A Reply


Math Captcha
82 − 76 =