ওমানে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার চার প্রবাসী ভাইয়ের মরদেহ অবশেষে দেশে ফিরছে আগামীকাল (মঙ্গলবার)।
মঙ্গলবার (১৯ মে) রাত ৯টার দিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স-এর একটি বিশেষ ফ্লাইটে তাদের মরদেহ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ পৌঁছানোর কথা রয়েছে। বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিশেষ ফ্রিজার অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহ নেওয়া হবে তাদের গ্রামের বাড়ি রাঙ্গুনিয়ায়।
বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বিজি-৭২২ মঙ্গলবার ওমানের স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ১০ মিনিটে মাস্কাট থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেবে। একই ফ্লাইটে নিহতদের স্বজন মোহাম্মদ ফজলুল হক-ও দেশে ফিরবেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক চিঠি না পাওয়ায় বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো সম্ভব হয়নি।
রোববার (১৭ মে) রাতে চট্টগ্রাম সমিতি ওমান-এর সভাপতি মোহাম্মদ ইয়াসিন চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, মরদেহ দেশে পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় সব আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। ওমান সরকার ও বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতায় দ্রুততার সঙ্গে এসব কার্যক্রম শেষ করা সম্ভব হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ সরকারের ব্যবস্থাপনায় চার ভাইয়ের মরদেহ পরিবহনের সম্পূর্ণ কার্গো খরচ বহন করা হচ্ছে। পাশাপাশি ওমান চট্টগ্রাম সমিতির পক্ষ থেকে হাসপাতালের হিমঘর বিল, কাফনের কাপড়, গোসল ও দাফনের প্রস্তুতিসহ প্রয়োজনীয় সব খরচ বহন করা হচ্ছে। নিহতদের পরিবারের কাছ থেকে কোনো অর্থ নেওয়া হয়নি।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ঢাকায় পৌঁছানোর পর প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়-এর সহায়তায় বিশেষ ফ্রিজার অ্যাম্বুলেন্সে মরদেহ সরাসরি রাঙ্গুনিয়ার গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে বুধবার (২০ মে) সকাল ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে মরদেহ বাড়িতে পৌঁছাবে।
নিহতদের একমাত্র জীবিত ভাই এনাম জানান, পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি চারটি কবর খননের প্রস্তুতি চলছে। তবে এই হৃদয়বিদারক মৃত্যুর খবর এখনো পুরোপুরি জানানো হয়নি তাদের অসুস্থ বৃদ্ধা মাকে।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার রাতে ওমানের আল মিলিদ্দা, আল মোছানা স্টেট অব আল বাতিনাহ এলাকায় গাড়ির ভেতরে বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে রাঙ্গুনিয়ার চার ভাইয়ের মৃত্যু হয়। নিহতরা হলেন রাশেদুল ইসলাম, সাহেদুল ইসলাম, মো. সিরাজ ও মো. শহিদ।

