নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি— মাদারীপুরের প্রত্যন্ত গ্রামের এক মেধাবী তরুণী। স্বপ্ন ছিল যুক্তরাষ্ট্র থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করে দেশে ফিরে পরিবারের মুখ উজ্জ্বল করবেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন থেমে গেল নির্মম হত্যাকাণ্ডে। শেষ পর্যন্ত দেশে ফিরলেন কফিনবন্দি হয়ে।
শনিবার (৯ মে) দুপুরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তার মরদেহ নিজ গ্রাম চরগোবিন্দপুর-এ পৌঁছালে স্বজন ও এলাকাবাসীর কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। বাদ আছর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাদা-দাদির কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃষ্টি ছিলেন মাদারীপুর সদর উপজেলা-এর খোয়াজপুর ইউনিয়নের চরগোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা। বাবা জহিরুল ইসলাম আকন (দিলু) চাকরির সুবাদে পরিবার নিয়ে ঢাকায় বসবাস করতেন। দুই ভাইবোনের মধ্যে ছোট ছিলেন বৃষ্টি।
তিনি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক শেষ করে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়-এ স্নাতকোত্তরে ভর্তি হন। পরে ফুল স্কলারশিপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা-এ কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পিএইচডি করতে যান।
পরিবারের সদস্যরা জানান, মৃত্যুর কিছুদিন আগেই বৃষ্টি ফোনে জানিয়েছিলেন, আগামী ১৭ মে দেশে ফিরবেন। ঈদ পরিবারের সঙ্গে উদযাপন করারও পরিকল্পনা ছিল তার। কিন্তু সেই ফেরা আর আনন্দের হলো না।
নিহত বৃষ্টির বাবা জহিরুল ইসলাম আকন বলেন, “এখন আর চাওয়ার কিছু নাই। আমার মেয়েকে ঘিরে সব স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে। শুধু হত্যাকারীর কঠোর বিচার চাই।”
মা আইভি বেগমও কান্নাজড়িত কণ্ঠে মেয়ের হত্যার বিচার দাবি করেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বৃষ্টি শুধু পরিবারের নয়, পুরো এলাকার গর্ব ছিলেন। তাই তার মরদেহ গ্রামে পৌঁছানোর পর সকাল থেকেই বাড়িতে মানুষের ঢল নামে। অনেকেই শেষবারের মতো তাকে দেখতে ভিড় করেন।
উল্লেখ্য, গত ১৬ এপ্রিল বৃষ্টি ও তার বন্ধু জামিল আহমেদ লিমন যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ হন। পরে টাম্পা এলাকায় তাদের দেহাবশেষ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়েহ-কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হত্যার দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে।
এদিকে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা কর্তৃপক্ষ নাহিদা সুলতানা বৃষ্টিকে মরণোত্তর ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করেছে।

