Sunday, November 8

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জুলাইয়ের আন্দোলনের মাধ্যমে দেশে পরিবর্তন এসেছে এবং জনগণ নতুন সরকারের প্রতি আশাবাদী। তবে একটি মহল ছোটখাটো ইস্যু তৈরি করে সেই পরিবর্তনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে।

শুক্রবার (৮ মে) দুপুরে পতিসর রবীন্দ্র কাচারি বাড়ি-তে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে নওগাঁ জেলা প্রশাসন।

মন্ত্রী বলেন, “জুলাইয়ে আমাদের সন্তানেরা সবাই মিলে যে লড়াইটা করল, আমরা একে বলি জুলাই যুদ্ধ। পরিবর্তন এসেছে, নতুন নির্বাচন হয়েছে। মানুষ নতুন সরকারের প্রতি আশা নিয়ে আছে। যারা ফ্যাসিস্ট ছিল তারা দেশটাকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে গেছে। অর্থনীতি, ব্যাংক ও প্রশাসন—সবকিছু লুটপাট করে ধ্বংস করেছে।”

তিনি আরও বলেন, “অনেকেই চেষ্টা করছে এই পরিবর্তনটাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে। ছোটখাটো ইস্যু নিয়ে গোলযোগ সৃষ্টি করতে। আমরা কেউ চাই না দেশে আবার কোনো অস্থিরতা তৈরি হোক।”

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্য ও মানবিক দর্শনের প্রসঙ্গ তুলে মির্জা ফখরুল বলেন, কবিগুরু শুধু সাহিত্যেই নয়, কৃষকদের উন্নয়ন ও আধুনিক কৃষি ব্যবস্থার প্রচলনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। তিনি বলেন, “রবীন্দ্রনাথ এখানে এসে কৃষকদের দুঃখ-দুর্দশা দেখে ব্যাংক স্থাপন করেছিলেন এবং আধুনিক কৃষি পদ্ধতি চালু করেছিলেন।”

নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। বলেন, তার বাবা মুসলিম লীগের রাজনীতি করলেও প্রতিদিন সকালে হাঁটাহাঁটি শেষে রবীন্দ্রনাথের ‘শাহজাহান’ কবিতা আবৃত্তি করতেন।

তিনি বলেন, “যে মানুষ সাহিত্য চর্চা করে, কবিতা পড়ে বা গান শোনে, সে নিঃসন্দেহে ভালো মানুষ হয়।”

দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, “আমাদের রাজনীতি সুন্দর না, পরিচ্ছন্ন না। মানুষ বারবার পরিবর্তনের জন্য লড়াই করেছে, প্রাণ দিয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসেনি।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের দেশে একটি হতাশাবাদী গোষ্ঠী আছে, যারা সমাজকে অস্থির রাখতে চায়। কিন্তু আমাদের মনে রাখতে হবে, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়েই আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। আবার গণতন্ত্রও সংগ্রামের মাধ্যমেই ফিরে পেয়েছি।”

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ড. আ ন ম বজলুর রশিদ।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মিজানুর রহমান মিনু, আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু-সহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা।

Leave A Reply


Math Captcha
92 − = 90