Sunday, November 8

মোহাম্মদ মাহবুব আলম খানকে ফেনীর পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে পদায়ন করাকে ঘিরে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। যুবদল নেতা হত্যা মামলাসহ দুটি হত্যা মামলার আসামি থাকা অবস্থায় তার এই পদায়ন বাতিলের দাবি উঠেছে।

মঙ্গলবার (৫ মে) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে তাকে ফেনীর এসপি হিসেবে পদায়ন করা হয়। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিবি পশ্চিম জোনের উপ-কমিশনার (ডিসি) হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

বুধবার (৬ মে) ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সেতাউর রহমান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে লিখিত আবেদন করে তার পদায়ন বাতিল ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের দমন-পীড়ন ও একাধিক হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ত ছিলেন মাহবুব আলম।

এর মধ্যে ২০১৭ সালে শিবগঞ্জে যুবদল কর্মী মিজানুর রহমান নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় তাকে ১০ নম্বর আসামি করা হয়েছে। নিহতের বাবা আইনাল হক গত বছরের সেপ্টেম্বরে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার এজাহারে দাবি করা হয়, ২০১৬ সালে পুলিশ পরিচয়ে মিজানুর রহমানকে তুলে নেওয়ার পর দীর্ঘদিন নিখোঁজ রাখা হয়। পরে কথিত বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় তার মৃত্যুর খবর জানানো হয়। একই ঘটনায় নিখোঁজ হন তার ভাই রেজাউল করিম, যার এখনো কোনো সন্ধান মেলেনি।

পরিবারের অভিযোগ, মিজানুরকে মুক্তি দেওয়ার জন্য পুলিশ কর্মকর্তারা মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেছিলেন। পরবর্তীতে টাকা দেওয়ার পরও তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়নি। বিষয়টি নিয়ে গুম কমিশন ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালেও অভিযোগ করা হয়েছে।

এদিকে আরেকটি হত্যা মামলায়ও মাহবুব আলম খানকে আসামি করা হলেও সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে তার নাম বাদ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

অভিযোগ অস্বীকার করে মাহবুব আলম খান বলেন, একটি মামলায় তিনি ইতোমধ্যে অব্যাহতি পেয়েছেন এবং অন্য মামলার ঘটনার সময় তিনি প্রশিক্ষণে ছিলেন বলে প্রমাণ দিয়েছেন।

মানবাধিকার আইনজীবী জিয়া হাবিব আহসান বলেন, গুরুতর ফৌজদারি মামলার আসামিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের আরও সতর্ক হওয়া উচিত।

Leave A Reply


Math Captcha
31 − 28 =