আর্থিক অব্যবস্থাপনা, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারস্পরিক বাণিজ্যিক চুক্তি এবং দুর্নীতির অভিযোগসহ সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড তদন্তের দাবিতে হাইকোর্ট–এ রিট আবেদন করা হয়েছে।
গত ২৯ এপ্রিল হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি করেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুহাম্মদ মুহসিন রশিদ। তিনি জানান, রিটটি বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ার–এর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে উপস্থাপন করা হয়েছে। আদালত আগামী রোববার রিটটি কার্যতালিকায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
রিট আবেদনে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস–এর বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এতে বলা হয়, সরকারপ্রধান হিসেবে তিনি এমন কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যা আইনি পর্যালোচনার দাবি রাখে।
রিটে অভিযোগ করা হয়েছে, তিনি নিজের ও তাঁর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে থাকা বিচারাধীন একাধিক মামলা প্রত্যাহার করিয়েছেন। এর মধ্যে আয়কর সংক্রান্ত ৩৮টি রিট ও রেফারেন্স মামলার উল্লেখ রয়েছে, যেখানে কর ফাঁকির পরিমাণ ছিল প্রায় ১১১ কোটি ১৭ লাখ ৪৯ হাজার ১১২ টাকা। এছাড়া তাঁর একটি প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৬৬৬ কোটি টাকার কর দায় মওকুফ করানোর অভিযোগও আনা হয়েছে।
এছাড়া জনশক্তি রপ্তানি, ডিজিটাল ওয়ালেট পরিচালনা এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার লাইসেন্সসহ বিভিন্ন সুবিধা গ্রহণের বিষয়টিও রিটে উল্লেখ করা হয়েছে।
রিটে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তিই আইনের ঊর্ধ্বে নন। এসব কর্মকাণ্ড প্রতিষ্ঠিত আইনি নীতির পরিপন্থী এবং জবাবদিহিতা ও আইনের শাসনের ভিত্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এ প্রেক্ষিতে রিটে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠনের নির্দেশনা চেয়ে রুল জারির আবেদন করা হয়েছে। এতে আইন মন্ত্রণালয়, মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং দুই আইন সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে।

