Sunday, November 8

দিগন্তজোড়া সোনালি ধানের মাঠ, অথচ কৃষকের মুখে নেই স্বস্তি। যশোর জেলার বিভিন্ন উপজেলায় পাকা ধান ঘরে তোলার সময় এলেও টানা বৃষ্টির আশঙ্কা ও শ্রমিক সংকটে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন চাষিরা।

চলতি মৌসুমের শেষ দিকে এসে আকাশে মেঘের আনাগোনা ও মাঝেমধ্যে বৃষ্টির কারণে অনেক কৃষক ধান কাটতে দেরি করছেন। আবার কোথাও কাটা ধান হঠাৎ বৃষ্টিতে পানির নিচে তলিয়ে গিয়ে ক্ষতির মুখে পড়েছে। ফলে মাঠে পাকা ধান রেখে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন অধিকাংশ কৃষক।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর যশোরে প্রায় ১ লাখ ৫৭ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। তবে আবহাওয়া অনিশ্চিত থাকায় পাকা ধান নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।

সরেজমিনে যশোর সদর, অভয়নগর, কেশবপুর ও ঝিকরগাছা উপজেলার মাঠে দেখা গেছে, অধিকাংশ জমির ধান পেকে গেলেও এখনো কাটা হয়নি। কিছু জায়গায় কাটা ধান পানিতে ডুবে গেছে, যা তুলে শুকাতে হিমশিম খাচ্ছেন কৃষকরা।

ঝিকরগাছার কৃষক প্রভাত কুমার বলেন, “ধান পেকে গেছে এক সপ্তাহ আগে, কিন্তু বৃষ্টির ভয়ে কাটতে পারছি না। শ্রমিক সংকটও আছে।”
একই এলাকার নিত্যপাল বাবু জানান, ধানের দাম কম হওয়ায় খরচ তুলতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

শ্রমিক সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বর্তমানে ধান কাটার শ্রমিকের মজুরি বেড়ে ৮০০ থেকে ১৬০০ টাকা পর্যন্ত দাঁড়িয়েছে। এতে কৃষকদের উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে।

কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যাদের ধান পুরোপুরি পেকে গেছে, তাদের দ্রুত কাটার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনে হারভেস্টার মেশিন ব্যবহারের কথাও বলা হচ্ছে। পাশাপাশি কাটা ধান দ্রুত শুকানোর ব্যবস্থাও নিতে বলা হয়েছে।

যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোশাররফ হোসেন জানান, “জেলায় ইতোমধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে দ্রুত বাকি ধান ঘরে তোলা সম্ভব হবে।”

তবে আবহাওয়ার এমন অনিশ্চয়তায় কৃষকদের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ। সময়মতো ধান ঘরে তুলতে না পারলে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা।

Leave A Reply


Math Captcha
9 + 1 =