টানা কয়েকদিনের ভারি বর্ষণে কুড়িগ্রামে দেখা দিয়েছে নীরব কৃষি বিপর্যয়। মাঠের পর মাঠ বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে, সঙ্গে ডুবছে কৃষকদের স্বপ্ন ও বিনিয়োগ। জেলার প্রায় সব উপজেলাতেই কৃষকরা চরম অনিশ্চয়তা ও হতাশার মধ্যে পড়েছেন।
গত সাত দিন ধরে থেমে থেমে বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বোরো মৌসুমের চাষিরা। পাকা, অর্ধপাকা ও কাঁচা—সব ধরনের ধানই এখন পানির কবলে পড়েছে।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, টানা বৃষ্টিতে জমিতে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে বৃষ্টির মধ্যেই পাকা ধান কাটছেন। তবে অর্ধপাকা ও কাঁচা ধান নিয়ে পড়েছেন চরম বিপাকে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নিচু জমির অধিকাংশ ধান ইতোমধ্যে তলিয়ে গেছে। এমনকি উঁচু জমিতেও পানি জমে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে।
সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের কৃষক আনিছুর রহমান বলেন, “বৃষ্টি আর বাতাসে প্রায় এক বিঘা জমির কাঁচা ধান পানিতে পড়ে গেছে। তাই কাটতে বাধ্য হচ্ছি।”
একই এলাকার কৃষক আব্দুল জলিল মিয়া বলেন, “১৩ কাঠা জমির ধান পুরোপুরি পানিতে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এখন কী করব বুঝতে পারছি না।”
উলিপুর উপজেলার বজরা ইউনিয়নের চর বজরা এলাকার কৃষক আব্দুল আজিজ মিয়া (৭৫) জানান, তার পাঁচ বিঘা ধান ও আট বিঘা ভুট্টা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। তিনি বলেন, “দ্রুত কাটতে না পারলে বড় ক্ষতি হবে। কিন্তু শ্রমিকের খরচ বেশি, আবার বৃষ্টি থাকলে শুকাতেও পারব না।”
ভুরুঙ্গামারী উপজেলার তিলাই ইউনিয়নের কৃষক হামিদুল ইসলাম বলেন, “এভাবে বৃষ্টি চলতে থাকলে বড় ক্ষতির মুখে পড়ব।”
এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানিয়েছেন, বৃষ্টির কারণে ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা ও ধরলা নদসহ জেলার সব নদ-নদীর পানি বাড়ছে, তবে এখনো বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে এবং উজান থেকে পাহাড়ি ঢল নামলে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। ইতোমধ্যে চরাঞ্চলের অনেক ফসলি জমি পানির নিচে চলে গেছে।

