Sunday, November 8

মালয়েশিয়ায় হত্যাকাণ্ডের শিকার ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার প্রবাসী যুবক নজরুল ইসলাম (৩২)-এর মরদেহ ১৮ দিন পর নিজ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছেছে। শনিবার (২ মে) সকাল ৮টার দিকে তার মরদেহ কালীগঞ্জ উপজেলার গোবরডাঙ্গা গ্রামে পৌঁছালে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

পরে সকাল ১০টায় পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এর আগে শুক্রবার দিবাগত রাতে মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তার মরদেহ আনা হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে রাত ৪টার দিকে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ সময় দাফন ব্যয়ের জন্য বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নজরুলের মায়ের নামে ৩৫ হাজার টাকার একটি চেক প্রদান করা হয়।

নিহত নজরুল ইসলাম কালীগঞ্জ উপজেলার গোবরডাঙ্গা গ্রামের মোতালেব হোসেনের ছেলে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ব্যবসায়িক বিরোধের জেরে মালয়েশিয়ায় তাকে কুপিয়ে হত্যা করার পর মরদেহ পুড়িয়ে ফেলে দুর্বৃত্তরা। একই ঘটনায় কোহিনুর বেগম নামে আরও এক বাংলাদেশি নারীও নিহত হন। গত ১৪ এপ্রিল দিবাগত রাতে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।

নিহতের ভাই জহির উদ্দীন জানান, নজরুল মালয়েশিয়ায় একটি সমন্বিত খামার গড়ে তুলেছিলেন, যেখানে গবাদিপশু ও বিভিন্ন পোষা প্রাণী লালন-পালন করতেন। তার ব্যবসায়িক সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হয়ে স্থানীয় অংশীদাররা হত্যার পরিকল্পনা করে। তিনি আরও বলেন, “আমার ভাইকে আগেও কয়েকবার হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। খুব শিগগির দেশে স্থায়ীভাবে ফেরার কথা ছিল, কিন্তু তার আগেই তাকে হত্যা করা হলো।”

এ ঘটনায় গ্রামজুড়ে শোকের মাতম চলছে। নিহতের পরিবার সরকারের কাছে হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেন বলেন, ঘটনাটি বিদেশে ঘটায় স্থানীয়ভাবে বিস্তারিত তথ্য নেই। নিহতের পরিবার সরকারের কাছে আবেদন করেছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তর বিষয়টি দেখবে।

Leave A Reply


Math Captcha
82 + = 83