Sunday, November 8

দেশের ফিলিং স্টেশনগুলোতে আবার স্বাভাবিক চিত্র ফিরে এসেছে। কোথাও পাম্প ফাঁকা, কোথাও স্বাভাবিক সময়ের মতোই গাড়ি তেল নিয়ে চলে যাচ্ছে। ব্যস্ত পাম্পগুলোতেও সীমিত সংখ্যক গাড়ি সারিবদ্ধ হয়ে তেল নিচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত তিন-চার দিন ধরে চাপ কমে এসেছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি), তেল বিপণন কোম্পানি—পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা—এবং পেট্রলপাম্প মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভিড় কমার পেছনে একাধিক কারণ কাজ করেছে। এর মধ্যে প্রধান দুটি হলো বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ বৃদ্ধি এবং মূল্যবৃদ্ধি। এছাড়া যুদ্ধ পরিস্থিতি ঘিরে অনিশ্চয়তা কমে যাওয়া, অবৈধ মজুতবিরোধী অভিযান এবং ফুয়েল পাস চালু করাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর বৈশ্বিক জ্বালানিবাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়। এর প্রভাব পড়ে দেশের বাজারেও। তেলের সংকটের আশঙ্কায় ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ সারি তৈরি হয়, যা প্রায় দুই মাস ধরে চলছিল। তবে সম্প্রতি সেই ভিড় হঠাৎ কমে গেছে।

পাম্প মালিকদের মতে, সরবরাহ বাড়ানোর ফলে চাপ কমেছে। তেল বিপণন কোম্পানিগুলো বলছে, চাহিদাও কমতে শুরু করেছে।

সরকার গত ১৮ এপ্রিল জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায়। এতে ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১০০ টাকা থেকে ১১৫ টাকা, অকটেন ১২০ টাকা থেকে ১৪০ টাকা এবং পেট্রল ১১৬ টাকা থেকে ১৩৫ টাকায় উন্নীত হয়। এর পরদিন ২০ এপ্রিল থেকে সরবরাহ বাড়ানো হলে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে থাকে।

পেট্রল পাম্প মালিক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ নাজমুল হক বলেন, “সংকট দেখা দিলে মানুষ অতিরিক্ত তেল মজুত করতে চায়। এতে ভীতি তৈরি হয়। এখন সরবরাহ বাড়ায় সেই প্রবণতা কমে গেছে। বাজার স্বাভাবিক রাখতে সরবরাহ ধরে রাখা জরুরি।”

বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, ২০ এপ্রিলের পর ডিজেল সরবরাহ বাড়িয়ে দৈনিক ১৩ হাজার টনের বেশি করা হয়েছে। গত ১০ দিনে গড়ে প্রতিদিন ১৩ হাজার ৪৬৩ টন ডিজেল সরবরাহ করা হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় বেশি। একইভাবে অকটেন ও পেট্রলের সরবরাহও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে।

পদ্মা অয়েল কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মফিজুর রহমান বলেন, “মানুষের মধ্যে যে আতঙ্ক ছিল, তা এখন কেটে গেছে। পাম্পে বাড়তি সরবরাহ দেওয়া হয়েছে। ফুয়েল পাস চালু এবং সরকারি বিভিন্ন উদ্যোগের কারণে ভিড় কমেছে।”

খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, যুদ্ধবিরতির কারণে বৈশ্বিক বাজারে অনিশ্চয়তা কমেছে। পাশাপাশি সরকার পাম্পে নজরদারি বাড়িয়েছে, গুজব প্রতিরোধে প্রচারণা চালিয়েছে এবং অবৈধ মজুতের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে। এতে বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে।

বর্তমানে দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই বলে জানিয়েছে বিপিসি। সংস্থাটির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান বলেন, “জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না। ভবিষ্যতের জন্যও প্রয়োজনীয় আমদানি প্রক্রিয়া চলছে।”

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে ফিলিং স্টেশনগুলোতে এই স্বস্তি পরিস্থিতি বজায় থাকবে।

Leave A Reply


Math Captcha
− 2 = 3