Sunday, November 8

কালবৈশাখীর তাণ্ডবে লবণ মাঠ ধ্বংসস্তূপ, কোটি টাকার ক্ষতিতে দিশেহারা উপকূলের চাষিরা কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপকূলজুড়ে লবণ শিল্পে নেমে এসেছে বড় ধরনের বিপর্যয়। গত দুই দিনের বৈরী আবহাওয়ায় প্রায় ৬৮ হাজার একর বিস্তীর্ণ লবণ মাঠ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে অন্তত এক লাখ মেট্রিক টন লবণ উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রান্তিক চাষিরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমজুড়ে ইতোমধ্যে ১২ দিনের বৃষ্টিতে প্রায় তিন লাখ মেট্রিক টন লবণ উৎপাদন কমে গেছে। তবে আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহ আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নেওয়ার আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তীব্র দাবদাহের কারণে কিছুদিন আগেও লবণ উৎপাদনে সুবাতাস বইছিল উপকূলে। দৈনিক উৎপাদন ১২ হাজার মেট্রিক টন থেকে বেড়ে রেকর্ড ৩২ হাজার মেট্রিক টনে পৌঁছেছিল। কিন্তু সেই গতি থামিয়ে দেয় হঠাৎ কালবৈশাখীর ঝড় ও ভারি বর্ষণ।
ঝড়ের আঘাতে লবণ মাঠের ‘বেড’ বা ‘কাই’ নষ্ট হয়ে গেছে, গলে গেছে মাঠে জমে থাকা লবণ। ফলে বহু এলাকায় উৎপাদন কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়েছে। বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত জমিগুলোতে পানি জমে থাকায় চাষিরা নতুন করে উৎপাদন শুরু করতে পারছেন না।
চাষিরা জানান, আবহাওয়া কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় তারা এখন মাঠে গিয়ে পানি নিষ্কাশন, ত্রিপল মেরামত এবং ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ করছেন। তবে অনেকেই বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
একজন চাষি জানান, “আমার ৫ একর লবণ মাঠ পুরো নষ্ট হয়ে গেছে। প্রায় ৩০০ মণ লবণ গলে গেছে। এখন আবার শুরু করতে হলে নতুন করে খরচ করতে হবে।”
কক্সবাজার লবণ শিল্প উন্নয়ন কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক মো. জাফর ইকবাল ভুঁইয়া বলেন, “সাধারণত হালকা বৃষ্টিতে পুরো লবণ নষ্ট হয় না। তবে আকস্মিক ভারি বর্ষণে হারভেস্টের জন্য প্রস্তুত লবণ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এবারের বড় ক্ষতি হয়েছে উৎপাদনে।”
তিনি জানান, বৃষ্টির কারণে প্রায় ১২ দিন উৎপাদন বন্ধ থাকায় দৈনিক গড়ে ২৫ হাজার মেট্রিক টন হিসাবে প্রায় তিন লাখ মেট্রিক টন লবণ কম উৎপাদিত হয়েছে।
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হান্নান জানান, বর্তমান বৈরী আবহাওয়া আরও ২-৩ দিন স্থায়ী হতে পারে। তবে ৫ মে থেকে বৃষ্টিপাত কমে আসবে এবং ৬ মে থেকে লবণ উৎপাদন পুনরায় শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ১৪ মে থেকে তীব্র দাবদাহ শুরু হতে পারে, যা টানা ১০ থেকে ১৫ দিন স্থায়ী হতে পারে। এ সময় আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে লবণ উৎপাদন দ্রুত বাড়তে পারে।
সব মিলিয়ে, প্রাকৃতিক দুর্যোগের ধাক্কায় উপকূলের লবণ শিল্প এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে। দ্রুত আবহাওয়া স্বাভাবিক না হলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Leave A Reply


Math Captcha
75 − 72 =