Sunday, November 8

চট্টগ্রামে গরম শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শিশুদের নিউমোনিয়ার প্রকোপ বেড়েছে। চলতি এপ্রিল মাসের প্রথম ২০ দিনে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ২৭৫ শিশু ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ২৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। যদিও এসব শিশুর কারও শরীরে হাম শনাক্ত হয়নি, তবে তাদের শরীরে ফুসকুড়ি ছিল।

চিকিৎসকেরা জানান, ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে নিউমোনিয়ার রোগীর সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যায়। হঠাৎ আবহাওয়া পরিবর্তন, ধুলাবালুর আধিক্য এবং ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়। পাশাপাশি হামে আক্রান্ত শিশুদের নিউমোনিয়ায় জটিলতা দেখা দেওয়ার ঝুঁকিও বেশি থাকে। ফলে অনেক শিশুকে শিশু নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (পিআইসিইউ) রাখতে হচ্ছে।

গত মঙ্গলবার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশুস্বাস্থ্য বিভাগে তিন শতাধিক শিশু ভর্তি ছিল। এর মধ্যে অন্তত ১০০ শিশু নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। হামের উপসর্গসহ নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত ১৩ শিশুকে পিআইসিইউতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় একই শয্যায় দুই থেকে তিন শিশুকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হামের জন্য নির্ধারিত দুটি ব্লকের ১৬ শয্যায় চিকিৎসা নিচ্ছে ৫০টির বেশি শিশু। স্থান সংকুলান না হওয়ায় অন্তত চার শিশুকে মেঝেতে শয্যা পেতে রাখতে হয়েছে। অভিভাবকদের দাবি, অন্তত ১০ শিশুর নিউমোনিয়ার জটিলতা রয়েছে।

হাসপাতালে ভর্তি এক বছর বয়সী নুর মো. সাফওয়ান ১১ দিন ধরে চিকিৎসাধীন। হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়ার পর নিউমোনিয়া দেখা দিলে তাকে তিন দিন পিআইসিইউতে রাখা হয়। তার বাবা মোহাম্মদ শফিক জানান, ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে আনা হয়। বর্তমানে শিশুটি কিছুটা সুস্থ।

শিশুস্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মোহাম্মদ মুছা মিঞা বলেন, বছরের এই সময়ে নিউমোনিয়ার রোগী বাড়ে। যেসব শিশু মারা গেছে, তাদের শরীরে হামের লক্ষণ হিসেবে ফুসকুড়ি ছিল। রোগীর চাপ বেশি হওয়ায় অনেককে মেঝেতেও রাখতে হচ্ছে।

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ মার্চ থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত জেলায় ৫৩ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন ভর্তি হয়েছে ৩১ জন এবং নতুন করে শনাক্ত হয়েছে ১২ জন। বর্তমানে হাসপাতালে ১৫৭ জন চিকিৎসাধীন। গত এক মাসে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৩৪৭ জন।

আক্রান্তদের মধ্যে অধিকাংশ শিশুর বয়স তিন বছরের কম। তবে আক্রান্ত তালিকায় ৩৬ বছর বয়সী এক ব্যক্তির নামও রয়েছে। এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ছোটবেলায় হামের টিকা না নিলে বয়স্কদেরও আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তিনি জানান, জেলায় ১৫ উপজেলার সাত লাখ শিশুকে হামের টিকার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

Leave A Reply


Math Captcha
− 5 = 5