Sunday, November 8

কুমিল্লা আদালত প্রাঙ্গণে বুধবার সন্ধ্যায় নিহত ছাত্রী সোহাগী জাহান তনু-র বাবা ইয়ার হোসেন, মা আনোয়ারা বেগম এবং ভাই আনোয়ার হোসেন রুবেল আদালত থেকে বের হওয়ার সময় কিছুটা স্বস্তির কথা জানান। তনুর বাবা স্লোগান দিয়ে বলেন, ১০ বছর পর একজন খুনিকে কাঠগড়ায় দেখে তার চোখে শান্তি লেগেছে।

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ-এর ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী তনু হত্যা মামলায় প্রথমবারের মতো গ্রেপ্তার করা হয় সাবেক সেনাসদস্য হাফিজুর রহমান-কে। তাকে বিকেলে কুমিল্লা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-এ হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। বিচারক মো. মুমিনুল হক শুনানি শেষে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম জানান, ঢাকার কেরানীগঞ্জ-এর বাসা থেকে হাফিজুর রহমানকে আটক করা হয় এবং পরে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে তোলা হয়। বর্তমানে তাকে ঢাকায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

তনুর মা আনোয়ারা বেগম বলেন, তিনি কখনো বিচার পাওয়ার আশা ছাড়েননি এবং খুনিদের ফাঁসি চান। তনুর বাবা ইয়ার হোসেন জানান, আরও দুজন সন্দেহভাজন—সার্জেন্ট জাহিদ ও সৈনিক শাহীন আলম—গ্রেপ্তার হলে ঘটনার পুরো রহস্য বেরিয়ে আসবে বলে তিনি আশা করছেন।

ঘটনাটি ঘটে ২০১৬ সালের ২০ মার্চ, যখন টিউশনি করতে গিয়ে তনু আর বাসায় ফেরেননি। পরে কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় ঝোপের মধ্যে তার মরদেহ পাওয়া যায়। ডিএনএ পরীক্ষায় তিনজন পুরুষের আলামত পাওয়া গিয়েছিল বলে তদন্ত সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল।

পরিবারের প্রত্যাশা—দীর্ঘ এক দশকের অপেক্ষার পর এই গ্রেপ্তার মামলার বিচার প্রক্রিয়ায় নতুন গতি আনবে।

Leave A Reply


Math Captcha
3 + 1 =