Sunday, November 8

ডিজেলের দাম বাড়ানোর পর গণপরিবহনের ভাড়া বাড়াতে চাপ দিচ্ছেন পরিবহনমালিকেরা। শুধু জ্বালানির দাম নয়, যন্ত্রাংশ ও পরিচালন ব্যয় বেড়েছে—এই যুক্তিতে নতুন ভাড়া নির্ধারণের দাবি উঠেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লিটারপ্রতি মাত্র ১ টাকা বাড়ার কারণে বড় আকারে ভাড়া বাড়ানোর যৌক্তিকতা নেই।

বর্তমানে বাস-মিনিবাসের ভাড়া নির্ধারণ করে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ। গত শনিবার ডিজেলের দাম বাড়িয়ে প্রতি লিটার ১১৫ টাকা করা হয়েছে। এর আগে ২০২২ সালের আগস্টে ডিজেলের দাম ৪২ শতাংশ বাড়ানোর পর সরকার বাসভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ৪০ পয়সা পর্যন্ত বাড়িয়েছিল।

পরবর্তী সময়ে ডিজেলের দাম কমলেও পরিবহনমালিকেরা ভাড়া কমাননি। সরকারও তদারকি করেনি বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে আগের বাড়তি ভাড়া এখনও কার্যত বহাল রয়েছে।

এদিকে ডিজেলচালিত পণ্যবাহী যানবাহনের ভাড়া সরকার নির্ধারণ করে না। তবে নন-এসি বাস-মিনিবাসের ভাড়া নির্ধারণ করে বিআরটিএ। অন্যদিকে ডিজেলে চলা যাত্রীবাহী নৌযানের ভাড়া ৪২ শতাংশ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে লঞ্চ মালিক সমিতি।

গতকাল রাতে ঢাকার বনানীতে বিআরটিএ কার্যালয়ে পরিবহনমালিক-শ্রমিকনেতাদের সঙ্গে বৈঠক হয়। বৈঠকে মালিকপক্ষ জ্বালানি ছাড়াও অন্যান্য ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার দাবি জানায়। কিন্তু বিআরটিএ শুধু জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির ভিত্তিতে ভাড়া বাড়ানোর কথা বলে। কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়।

ভাড়া নির্ধারণে বিআরটিএর একটি কমিটি বাসের আয়ুষ্কাল, যাত্রীসংখ্যা, জ্বালানি ব্যয়সহ প্রায় ২০টি বিষয় বিবেচনা করে। তবে এই ব্যয়ের কিছু অংশকে “অযৌক্তিক” বলেও সমালোচনা রয়েছে।

উদাহরণ হিসেবে, ফার্মগেট থেকে সাভার প্রায় ১৯.৬ কিলোমিটার দূরত্ব হলেও অনেক বাসে ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ৫০ টাকা। হিসাব অনুযায়ী ভাড়া কম হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে বেশি আদায় করা হচ্ছে।

বর্তমানে সরকার নির্ধারিত ভাড়া—

  • মহানগরে বাস: কিলোমিটারপ্রতি ২ টাকা ৪২ পয়সা
  • মহানগরে মিনিবাস: কিলোমিটারপ্রতি ২ টাকা ৩২ পয়সা
  • দূরপাল্লা বাস: কিলোমিটারপ্রতি ২ টাকা ১২ পয়সা

বিশেষজ্ঞদের মতে, আগে ভাড়া কমানোর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না হওয়ায় এখন নতুন করে ভাড়া বাড়ানো হলে যাত্রীদের ওপর বাড়তি চাপ পড়বে।

Leave A Reply


Math Captcha
+ 75 = 79