Sunday, November 8

মঠবাড়িয়া উপজেলায় হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ পরিচয়ে দীর্ঘদিন প্রতারণার অভিযোগে এক ভুয়া চিকিৎসককে আটক করেছে পুলিশ। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

রোববার (১৮ এপ্রিল) বিকেলে পৌর শহরের দক্ষিণ বন্দর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তির আসল নাম সুভাষ চন্দ্র মোহন্ত। ধর্মান্তরের পর তিনি নুরুল হাসান নাম ধারণ করেন বলে জানা গেছে।

পুলিশ জানায়, তিনি বগুড়া, গাইবান্ধা ও জয়পুরহাট জেলার বিভিন্ন স্থানকে নিজের ঠিকানা হিসেবে ব্যবহার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিভ্রান্ত করতেন। নিজেকে ‘ডা. লিয়াকত হোসেন’ পরিচয় দিয়ে মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স–এর সামনে বিভিন্ন ক্লিনিকে হৃদরোগ ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ হিসেবে চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন।

প্রায় এক মাস আগে এক প্রসূতি মাকে পরীক্ষা করে তিনি গর্ভের সন্তান মারা গেছে বলে ভুল রিপোর্ট দেন। পরে অন্য চিকিৎসকের আল্ট্রাসনোগ্রাফিতে দেখা যায় শিশুটি জীবিত ও সুস্থ। এরপর তার কার্যক্রম নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়।

বিষয়টি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. সৌমিত্র সিনহা প্রশাসনকে জানান। পরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুদীপ্ত দেবনাথ–এর নেতৃত্বে দক্ষিণ বন্দর এলাকার সাদেকা ভিলার নিচতলা থেকে তাকে আটক করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে তিনি একাধিক ভিন্ন পরিচয় দেন—ডা. লিয়াকত হোসেন, ডা. নুরুল ইসলাম এবং উরিং চাং নামের একজন চাকমা চিকিৎসকের পরিচয়ও দেন। তবে কোনো বৈধ কাগজপত্র বা বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল–এর নিবন্ধন দেখাতে ব্যর্থ হন।

পরে অপরাধ স্বীকার ও বৈধ প্রমাণ না পাওয়ায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। সহকারী কমিশনার সুদীপ্ত দেবনাথ জানান, জনস্বাস্থ্য রক্ষায় এ ধরনের ভুয়া চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

Leave A Reply


Math Captcha
4 + 5 =