চট্টগ্রাম নগরের দুই নম্বর গেট এলাকায় ছিনতাইকারী সন্দেহে শাহাদাত হোসেন নামের এক যুবককে নেচে–গেয়ে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দেড় বছর পর অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ। তদন্তে উঠে এসেছে, একটি ‘মব’ তৈরি করে তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয় এবং পরে লাশ অটোরিকশায় করে নালার পাশে ফেলে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় এক কিশোরসহ পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। তাঁরা হলেন—
- ফরহাদ আহমেদ চৌধুরী
- আনিসুর রহমান
- মেহেদী হাসান
- মো. মাজেদ
- এবং ১৬ বছর বয়সী এক কিশোর (আলাদা দোষীপত্র)
গত ৮ এপ্রিল পাঁচলাইশ থানা–পুলিশ চট্টগ্রাম আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। নিহত শাহাদাত নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীর বাসিন্দা ছিলেন এবং নগরের কোতোয়ালি এলাকায় বসবাস করে ফলমণ্ডিতে কাজ করতেন।
📹 ভিডিওতে উঠে আসে ঘটনা
লাশ উদ্ধারের প্রায় এক মাস পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ২০ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়—কেউ গান গাইছে, কেউ বাঁশি বাজাচ্ছে, আর মাঝখানে দুই হাত বাঁধা অবস্থায় এক যুবককে মারধর করা হচ্ছে। ওই ভিডিওর ভিত্তিতেই তদন্ত এগোয়।
প্রত্যক্ষদর্শী মীর নাজমুল হোসেন জানান, ১৩ আগস্ট রাতে দুই নম্বর গেট এলাকায় ট্রাফিক সিগন্যালের সঙ্গে বেঁধে শাহাদাতকে মারধর করা হয়। পরে তাঁর লাশ প্রবর্তক মোড়ের নালার পাশে পাওয়া যায়।
তদন্ত কর্মকর্তা এস এম সফিউল আজম মুন্সী বলেন, ভিডিও ও জবানবন্দিতে নিশ্চিত হওয়া গেছে—১৫–২০ জন মিলে ছিনতাইকারী সন্দেহে মারধর করে হত্যা করা হয়। আরও দুজনকে শনাক্ত করা গেলেও পূর্ণ ঠিকানা না পাওয়ায় আসামি করা যায়নি।
নিহতের বাবা মো. হারুন বিচার দাবি করে বলেন, তাঁর ছেলে দিনমজুর ছিলেন এবং এমন ঘটনা যেন আর কারও সঙ্গে না ঘটে।

