‘আমার বয়স যখন ১০-১২ বছর, তখন আমার বড় বোনটা বিদেশে চলে যায়। যখন বড় হলাম, বোনটারে কাছে পাইলাম না। আল্লায় জানে যুদ্ধের বোমায় আমার বোন না জানি কত কষ্ট নিয়া মরছে।’—কাঁদতে কাঁদতে কথাগুলো বলছিলেন লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহত নারী শ্রমিক দিপালী বেগমের ছোট বোন লাইজু বেগম।
ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার পূর্ব শালেপুর মুন্সিরচর গ্রামের দরিদ্র পরিবারে জন্ম দিপালী বেগমের। বাবা শেখ মোকা একজন দিনমজুর, মা রাজিয়া বেগম মারা গেছেন আট বছর আগে। তিন বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে দিপালী ছিলেন দ্বিতীয়। সংসারের অভাব ঘোচাতে ২০১১ সালে মাত্র ১৯ বছর বয়সে লেবাননে পাড়ি জমান তিনি।
প্রবাসে থেকে নিয়মিত টাকা পাঠাতেন দেশে। তার পাঠানো অর্থেই ভাঙা ছাপড়ার জায়গায় টিনের ঘর তৈরি হয়, ভাইবোনদের বিয়ে হয় এবং সংসারের চেহারা বদলে যায়। নিজের বিয়ের কথা না ভেবে পরিবারের দায়িত্বই কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন তিনি।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ২০২০ ও ২০২৩ সালে দেশে এলেও শেষবার কিছুটা অভিমান নিয়েই ২০২৪ সালের এপ্রিলে আবার লেবাননে ফিরে যান দিপালী। গত ৮ এপ্রিল বৈরুতের একটি ভবনে ইসরায়েলি বোমা হামলায় গুরুতর আহত হন তিনি। পরে রফিক হারিরি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
ছোট বোন লাইজু জানান, মৃত্যুর দিন সকালেও ইমোতে কথা হয়েছিল তাদের। “আমার আপা সবসময় হাসতো, কইতো বিদেশ গেলে আর অভাব থাকবি না। সেই আপাই আমাগো সবাইরে দেখছে, সংসার চালাইছে। আল্লাহ আইজকা তারে নিয়া গেলো”—কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন তিনি।
দীর্ঘ প্রবাস জীবনে দিপালীর মন পড়ে থাকতো গ্রামের বাড়িতে। এখন তার পাঠানো কাপড় আর স্মৃতিই পরিবারের একমাত্র সান্ত্বনা। পরিবারের একটাই দাবি—বিদেশে পড়ে থাকা দিপালীর মরদেহ দ্রুত দেশে এনে শেষবারের মতো দেখার সুযোগ দেওয়া হোক।
স্থানীয় ইউপি সদস্য শেখ ফালু বলেন, দিপালী ছিল চরাঞ্চলের অতি দরিদ্র পরিবারের মেয়ে। তার আয়ের ওপরই পুরো সংসার চলতো। হঠাৎ এমন ঘটনায় পরিবারসহ পুরো গ্রাম শোকাহত।

