Sunday, November 8

ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে হেঁটে বিদ্যালয়ে যাচ্ছিল ১০ বছরের শিক্ষার্থী হাসিবুল ইসলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিদ্যালয়ে পৌঁছানো হয়নি তার। কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে নিয়ন্ত্রণ হারানো একটি লরির চাপায় প্রাণ হারিয়েছে সে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছে তার সহপাঠী মেহজাবিন আক্তার (১০)। শনিবার সকালে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার আমানগন্ডা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত হাসিবুল ইসলাম প্রবাসী আবুল হোসেনের ছেলে। আহত মেহজাবিন একই এলাকার বাসিন্দা। তারা আমানগন্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং সম্পর্কে চাচাতো ভাই-বোন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার সকালে হাসিবুল ও মেহজাবিন ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশ দিয়ে হেঁটে বিদ্যালয়ে যাচ্ছিল। আমানগন্ডার তাকিয়া আমগাছ এলাকায় পৌঁছালে পেছন থেকে চট্টগ্রামমুখী একটি লরি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাদের চাপা দেয়। পরে লরিটি সড়কের পাশে উল্টে যায়। লরির নিচে পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই হাসিবুলের মৃত্যু হয় এবং গুরুতর আহত হয় মেহজাবিন।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে হাসিবুলের মরদেহ উদ্ধার করে। আহত মেহজাবিনকে প্রথমে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

নিহত শিশুটির চাচাতো ভাই খালেদ হোসেন জানান, প্রতিদিনের মতো নাশতা শেষে দুজন একসঙ্গে বিদ্যালয়ের উদ্দেশে বের হয়েছিল। বিদ্যালয়ের কাছাকাছি পৌঁছালে দুর্ঘটনাটি ঘটে।

চৌদ্দগ্রামের মিয়াবাজার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহাব উদ্দিন জানান, শিক্ষার্থীদের চাপা দেওয়া লরিটি জব্দ করা হয়েছে। তবে গাড়ির চালক ও সহকারী পলাতক রয়েছেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে এবং ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave A Reply


Math Captcha
76 + = 80