লিবিয়া থেকে গ্রিসে ঝুঁকিপূর্ণ ‘গেমযাত্রায়’ গিয়ে ভূমধ্যসাগরে প্রাণ হারিয়েছেন সুনামগঞ্জের তরুণ শায়েক আহমদ (২৩)। তাঁর পরিবার অভিযোগ করেছে, দালালদের মাধ্যমে গ্রিসে পাঠাতে দুই দফায় ১২ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছিল। টাকা জোগাড় করতে বাবা আখলুছ মিয়া গরু ও জমি বিক্রি করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই মৃত্যু হয় শায়েকের।
স্বজনদের অভিযোগ, আজিজুল ইসলাম নামের এক দালালের মাধ্যমে শায়েকসহ জগন্নাথপুর উপজেলার আরও কয়েকজনকে লিবিয়ায় নেওয়া হয়েছিল। একই ঘটনায় নিহত অন্য পরিবারের সদস্যরাও ওই দালালসহ সংশ্লিষ্টদের বিচার দাবি করছেন।
জানা যায়, ২১ মার্চ লিবিয়া থেকে ৩৮ জনকে নিয়ে একটি রাবারের বোট গ্রিসের উদ্দেশে রওনা দেয়। বোটটি পথ হারিয়ে ছয় দিন ভূমধ্যসাগর এ ভাসতে থাকে। খাবার ও পানির সংকটে দুর্বল হয়ে একে একে ১৮ জন মারা যান। দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় দুই দিন পর মৃতদেহগুলো সাগরে ফেলে দেওয়া হয়। নিহতদের মধ্যে সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলার ছয়জন, জগন্নাথপুর উপজেলার পাঁচজন এবং দোয়ারাবাজার উপজেলার একজন ছিলেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বিভিন্ন দালালচক্র ইউরোপে নেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে যুবকদের কাছ থেকে ১০ থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করে। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন দালালের নাম উঠে এসেছে বলে জানা গেছে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তালিকা করা হচ্ছে এবং আর্থিকভাবে সহায়তার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে পুলিশ সুপার এ বি এম জাকির হোসেন বলেন, দালালদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে এবং জগন্নাথপুর ও দিরাই থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। প্রয়োজন হলে পুলিশ নিজেই বাদী হয়ে মামলা করবে।
এ ঘটনায় মানবপাচার চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

