ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার বিদায় নেওয়ার এক মাস পার হলেও বিতর্ক থামছে না। দেড় বছর মেয়াদি এ সরকারের উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ, বিভিন্ন অধ্যাদেশ এবং আন্তর্জাতিক চুক্তি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিয়েও চলছে বিতর্ক। বিশেষ সংসদীয় কমিটি এসব অধ্যাদেশের প্রয়োজনীয়তা ও জনস্বার্থ নিয়ে বিশ্লেষণ করছে। সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু অধ্যাদেশ অযাচিতভাবে জারি করা হয়েছে এবং সংসদই এর ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে করা চুক্তি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। টিআইবি ও সিপিডিসহ বিভিন্ন সংস্থা এসব চুক্তি জনসম্মুখে প্রকাশের দাবি জানিয়েছে।
বিতর্ক নতুন মাত্রা পায় যখন আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া ‘ডিপ স্টেট’ প্রসঙ্গ তুলে বক্তব্য দেন। রাজধানীর বাংলামোটরে জাতীয় নাগরিক পার্টির এক অনুষ্ঠানে তিনি দাবি করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের শুরুতে কিছু প্রভাবশালী শক্তি সরকারকে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকার প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে সে প্রস্তাবে সরকার সাড়া দেয়নি বলে জানান তিনি।
এর আগে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামও ‘ডিপ স্টেট’ প্রসঙ্গ উত্থাপন করেছিলেন। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।
‘ডিপ স্টেট’ বলতে রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক কাঠামোর বাইরে থাকা প্রভাবশালী শক্তিকে বোঝানো হয়—যারা নীতিনির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে। ধারণাটির উৎপত্তি তুরস্কে হলেও পরে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
এ প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ক্ষমতায় থাকাকালে ‘ডিপ স্টেট’ ভাঙার উদ্যোগের কথা বলেছিলেন।
সাম্প্রতিক এই বক্তব্য ও অভিযোগের পর অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মকাণ্ড, নির্বাচন নিয়ে অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিষয়গুলো নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে এবং এর প্রকৃত তথ্য উদঘাটন জরুরি।

